জামালপুর সদরের সিংহজানী খাদ্য গুদাম এলাকাটি এখন বর্ষা এলেই যেন একটি ‘দ্বীপ’-এ পরিণত হয়। বছরের পর বছর ধরে বর্ষা মৌসুমে গুদাম চত্বরে হাঁটুসমান পানি জমে থাকলেও, তা নিরসনে কোনো কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। ফলে একদিকে যেমন গুদামের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে, তেমনি সরকারি বিপুল পরিমাণ খাদ্যশস্যের গুণগত মান নষ্ট হওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গত কয়েক বছর ধরেই বর্ষায় জলাবদ্ধতা সিংহজানী খাদ্য গুদামের নিত্যসঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। ড্রেনেজ ব্যবস্থা বা পানি নিষ্কাশনের উপযুক্ত কোনো ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই গুদামের সামনের রাস্তায় এবং আঙিনায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। বৃষ্টির পানি জমে থাকলে তা সহজে সরতে চায় না, ফলে নোংরা ও দুর্গন্ধযুক্ত পরিবেশ তৈরি হয়।
খাদ্য গুদামের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় জলাবদ্ধতা থাকার কারণে সরকারের সংরক্ষিত খাদ্যশস্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। জলাবদ্ধতার কারণে গুদামের ভেতরে স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ সৃষ্টি হয়, যা চাল ও গম মজুত রাখার জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। দীর্ঘমেয়াদী এই জলবদ্ধতা রোধ করা না গেলে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে পারে সরকারি এই খাদ্য ভাণ্ডারটি।
বারবার অভিযোগ করার পরেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টিকে গুরুত্বের সাথে নিচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। স্থানীয়দের মতে, একটি সরকারি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার এমন বেহাল দশা প্রশাসনের অদূরদর্শিতা ও অবহেলারই বহিঃপ্রকাশ। জলাবদ্ধতা নিরসনে দ্রুত ড্রেন নির্মাণ বা পানি নিষ্কাশনের স্থায়ী ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
গুদামের নিয়মিত কার্যক্রম সচল রাখতে এবং সরকারি সম্পদ রক্ষায় দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, “প্রতি বছর বর্ষার সময় একই সমস্যা দেখতে দেখতে আমরা বিরক্ত। সরকারের গুরুত্বপূর্ণ এই সম্পদ রক্ষায় এবং জনগণের ভোগান্তি কমাতে স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তর দ্রুত একটি টেকসই পরিকল্পনা গ্রহণ করবে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।”