October 8, 2026, 7:45 pm

ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী-সুপারভাইজার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগে সুন্দরগঞ্জে তালা ও ফুলছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় ভাংচুর

এস, এম শাহাদৎ হোসাইন, রংপুর

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ড শুমারিতে তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার পদে জনবল নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ তুলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তার কার্যালয়ে তালা দিয়েছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। এর আগে ফুলছড়ি নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে ভাঙচুর চালানো হয়। গত ১১ আগস্ট মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সমাজসেবা কর্মকর্তাকে অপসারণ, নিয়োগের ফলাফল বাতিল এবং স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ প্রক্রিয়ায় নতুন করে নিয়োগের দাবিতে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিলে পর কার্যালয় দুটিতে তালা দেওয়া হয়। সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঈফফাত জাহান তুলি বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে দুপুর ১২টার দিকে পৌর শহরের বাহিরগোলা জামে মসজিদ মোড় থেকে উপজেলা ও পৌর বিএনপি এবং অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের সামনে গিয়ে অবস্থান নেয়। একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীরা ওই কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেন।

পরে বিক্ষোভকারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে গিয়ে মূল ফটকেও তালা লাগিয়ে দেন। এ সময় তারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সমাজসেবা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন শ্লোগান দেন। পাশাপাশি অবৈধ নিয়োগ মানি না, মানবো না, সহ বিভিন্ন শ্লোগান দিতে দেখা যায়। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, সরকারের ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগে যথাযথ নিয়ম, যোগ্যতা ও স্বচ্ছতা অনুসরণ করা হয়নি। পছন্দের প্রার্থীদের নিয়োগ দিয়ে যোগ্য প্রার্থীদের বঞ্চিত করা হয়েছে। তাদের দাবি, বিতর্কিত প্রক্রিয়ায় নিয়োগ পাওয়া ব্যক্তিদের মাধ্যমে উপকারভোগী শনাক্ত করা হলে কার্যক্রমই প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে। প্রকাশিত ফলাফল বাতিল করে যোগ্যতা ও মেধার ভিত্তিতে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ প্রক্রিয়ায় নতুন করে নিয়োগ দিতে হবে। একই সঙ্গে অনিয়মের মাধ্যমে নিয়োগে জড়িতদের তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানান তারা। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া উপজেলা বিএনপির আহŸায়ক বাবুল আহমেদ বলেন, যারা এই প্রোগ্রাম নিয়ে কট‚ক্তি ও মন্তব্য করেছে, সেই ফ্যাসিস্টদের নিয়োগ বাতিল করে মেধার ভিত্তিতে নতুন করে নিয়োগ কার্যক্রম করতে হবে। তালা খোলার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, নিয়োগের বিষয়ে নতুন করে ঘোষণা না আসা পর্যন্ত তালা বন্ধ থাকবে। বিক্ষোভে উপজেলা বিএনপির আহবায়ক বাবুল আহমেদ ছাড়াও সদস্য সচিব মাহমুদুল ইসলাম প্রামানিক, পৌর বিএনপির আহŸায়ক ইখতিয়ার উদ্দিন ভূইয়া নিপন, যুগ্ম আহবায়ক ইফতেখার হোসেন পপেল, উপজেলা যুবদলের আহবায়ক আব্দুর রহমান, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব মতিয়ার রহমান, পৌর যুবদলের আহবায়ক আনোয়ারুল ইসলাম আনোয়ার, উপজেলা ছাত্রদলের আহয়ক ওয়ালিউজ্জামান মন্ডল রিয়েলসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এ বিষয়ে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঈফফাত জাহান তুলি বলেন, একটি বিক্ষোভ থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সমাজসেবা কার্যালয়ে তালা দেওয়া হয়েছে। ফ্যামিলি কার্ডের শুমারিতে জনবল নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমার জানা নেই। একাধিক বোর্ড গঠন করে পরীক্ষার মাধ্যমে অত্যন্ত স্বচ্ছতার সঙ্গে অভিজ্ঞ ও মেধাবীদের ভিত্তিতে নিয়োগ কার্যক্রম স¤পন্ন করা হয়েছে। তালা খোলার বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, আমি ওই সময়ে কার্যালয়ে ছিলাম না। পৌরসভার একটি অনুষ্ঠানে ছিলাম। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে তালা খোলার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এর আগে একই দিন দুপুর ১টার দিকে একই অভিযোগ তুলে গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে ভাঙচুর চালান একদল বিক্ষোভকারী। স্থানীয় সূত্রের দাবি, ফুলছড়ি উপজেলা যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ওই ভাঙচুরে নেতৃত্ব দেন। তবে বিএনপির অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতারা ভাঙচুরের সঙ্গে তাদের স¤পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। এর আগে ১০ আগস্ট সোমবার রাতে এক ফেসবুক পোস্টে মঙ্গলবার সকালে ফুলছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় ঘেরাও কর্মসূচির ঘোষণা দেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) গাইবান্ধা জেলার যুগ্ম সদস্য সচিব মাসুদুর রহমান আরিফ। ওই কর্মসূচি থেকেই ফুলছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কার্যালয়ে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।