May 6, 2026, 10:36 am
শিরোনাম:
ফরিদপুরে দুর্বৃত্তের বিষ প্রয়োগে মৎস্য খামারের অর্ধকোটি টাকার ক্ষতি, নিঃস্ব হওয়ার আশঙ্কা চাষীর দেড় কোটি টাকার ইয়বা সহ পুলিশ সদস্য আটক শপথ নিলেন এনসিপির নুসরাত তাবাসসুম শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ড : রাজসাক্ষী হতে চান সাবেক ডিআইজি জলিল বদলে গেল স্কুল: মাদকের আখড়া এখন ‘গোলাপি শিশুপার্ক’ ইরানের পরমাণু শক্তির অধিকারে সমর্থন জানাল চীন, শান্তি আলোচনার আহ্বান বঙ্গে বিজেপি র ঝড়ের দাপটে মমতা ক্যারিশমা শেষ হাওর অঞ্চল রক্ষায় জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি-বাংলাদেশ গণমুক্তি পার্টি পশ্চিম বাংলায় ভোট পরবর্তীতে হিংসা বরদাস্ত নয়, কড়া বার্তা ভারতের নির্বাচন কমিশনের কমলনগরে শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ ও শিক্ষার মানোন্নয়ন বিষয়ক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

বদলে গেল স্কুল: মাদকের আখড়া এখন ‘গোলাপি শিশুপার্ক’

নিউজ পাওয়ার ২৪ ডেস্ক:

কুমিল্লা রেলওয়ে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। একসময় ছিল জরাজীর্ণ, রাত-দিন চলত মাদকসেবীদের আড্ডা। ছিল না ব্যবহারের মতো শৌচাগার। ড্রেনের ময়লা আর মাঠের ডোবার পানি মিলেমিশে একাকার হয়ে যেত। স্কুলের কক্ষেও পানি জমতো। নোংরা পরিবেশের স্কুলে শিক্ষার্থীরা আসতে চাইতো না।

সেই প্রায় পরিত্যক্ত স্কুলটি এখন যেন গোলাপি রঙে রাঙানো শিশুপার্কে পরিণত হয়েছে। আগে নিম্নবিত্তের সন্তানরা পড়তে আসতো, এখন মধ্যবিত্তের সন্তানরাও আসছে। স্কুলে শিক্ষার্থী বেড়ে যাওয়ায় এখন ক্লাসরুমের সংকট সৃষ্টি হয়েছে।

সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, স্কুলের উত্তরপূর্ব কোনে দোলনা ও স্লিপার বসানো হয়েছে। সেখানে হুড়োহুড়ি করে শিক্ষার্থীরা খেলায় নেমে পড়েছে। তাদের উচ্ছ্বাস যেন বাতাসে আনন্দের ঢেউ তুলেছে। মাঠের লেকে ফুটেছে লাল শাপলা। ফুলের বাগানের মাঝে মাঝে দুই চারটি পাখিও রয়েছে নিজেদের মতো। পতপত করে উড়ছে লাল সবুজের পতাকা। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের বসার জন্য বেঞ্চ রয়েছে। এটিকে এখন পরিবেশ সুন্দরের দিকে থেকে কুমিল্লা জেলার সেরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় দাবি করেন অভিভাবকরা।

জানা গেছে, কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার চাঁদপুর গ্রামের বাসিন্দা আবদুল হালিম মজুমদার প্রায় ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে স্কুলটির সৌন্দর্যবর্ধন করেছেন। আগে যেখানে ২০০ জনের কিছু বেশি শিক্ষার্থী ছিল, পরিবেশ ভালো হওয়ায় তা এক বছরের মাথায় প্রায় ৩০০ জন হয়ে গেছে।

শিক্ষার্থী ফাইজা আক্তার মাহি, নুসরাত জাহান নুরী, আরিফা মুনতাসীর ইসলাম, নাদিমুল ইসলাম ও মো. আবদুল্লাহ বলেন, আগে স্কুলের কক্ষে নোংরা পানি ছিল, মাঠে হাঁটা যেতো না। এখন স্কুলটা শিশুপার্কের মতো সুন্দর হয়ে গেছে। আমাদের স্কুলে এলে এখন আর বাসায় যেতে মন চায় না।

অভিভাবক সজল ঋষি বলেন, আগে এখানে মাদকের আড্ডা বসতো। তবে পরিবেশ এখন সুন্দর হয়েছে। আমার তিন সন্তান এখানে পড়ে। স্কুলটির এখন সুন্দর হওয়ায় ভালো পরিবেশ দেখে বড়লোকের ছেলে-মেয়েরাও পড়তে আসছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তাছলিমা আক্তার বলেন, ভবন নিচু হওয়ায় বছরের ৮ মাস পানি থাকতো। সংস্কার হওয়ায় সে সমস্যা কেটে গেছে। এছাড়া আগে মাদকের আখড়া ছিল। এখন আমাদের স্কুলে সবার থেকে সুন্দর। তিনি  আবদুল হালিমকে ধন্যবাদ জানান।

তিনি আরো বলেন, স্কুলের পরিবেশ সুন্দর হওয়ায় শিক্ষার্থী বাড়ছে। কিন্তু আমরা জায়গা দিতে পারছি না। সরকারের কাছে দাবি, এখানে একটা নতুন ভবন নির্মাণ করা হোক।

আবদুল হালিম মজুমদার বলেন, শিক্ষাঙ্গণের ভালো পরিবেশ দেখলে মন জুড়িয়ে যায়। এখানে প্রশাসন, কোনো নেতা বা সংগঠন নজর না দেওয়ায় কিছু কাজ করেছি। এই স্কুলে নতুন ভবন হলে ক্লাসরুম সংকট কেটে যাবে।