October 8, 2026, 6:13 pm

রংপুরের ৪ হত্যাকাণ্ড: সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদ

এস, এম শাহাদৎ হোসাইন, রংপুর

রংপুর নগরীতে সাবেক শিক্ষকসহ তার পরিবারের চার সদস্যের হত্যাকাÐের ঘটনায় গ্রেফতার করা সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। আদালতের আদেশ অনুযায়ী রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। আজ ১ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে যান মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) তিন সদস্যের একটি দল। তাদের মধ্যে ছিলেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও ডিবির পরিদর্শক জিন্নাত আলী, উপপরিদর্শক মমিনুল ইসলাম ও আবু সাঈদ বাবলা। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম এন্ড অপস) তোফায়েল আহমেদ। মঙ্গলবার বিকালে আরপিএমপি কমিশনারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে প্রেস ব্রিফিংয়ে এই পুলিশ কর্মকর্তা জানান, আলোচিত ফোর মার্ডার নিয়ে আমরা মেট্রোপলিটন পুলিশ কাজ করে যাচ্ছি। আমরা আশা করি, এই হত্যাকাÐের রহস্য উদ্ঘাটনের দ্বারপ্রান্তে রযেছি। যেহেতু এটি একটি তদন্তাধীন, তাই এখানে কোনো তথ্য গোপন করার বিষয় নাই। তিনি আরও বলেন, আসামিদের জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদ করেছি, এটি অব্যাহত থাকবে। এ হত্যাকাÐের রহস্য উদ্ঘাটনে আমরা সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব বজায় রেখে এ মামলার নি®পত্তি করবো। এর আগে, গত ৩১ আগস্ট সোমবার আসামি সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে ডোপ টেস্টে তাদের শরীরে মাদকের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি বলে জানায় পুলিশ। যদিও সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের ভাষ্য, বিলম্বে ডোপটেস্ট করায় এমন ফল এসেছে। একই দিন বিকেলে আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৩ দিনের রিমান্ড আবেদন করেছিল পুলিশ। তবে রংপুর চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. রফিকুল ইসলাম ২ দিন ৩ ঘণ্টা করে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ দেন। এদিকে, একটি বেসরকারি গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শিক্ষক পরিবারের ৪ জনকে হত্যার ঘটনায় পুলিশ নতুন তথ্য পেয়েছে বলেও জানিয়েছে সনাতন চক্রবর্তী। পুলিশের এই কর্মকর্তা জানান, গ্রেফতার সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসের মধ্যে ঘটনার আগে এবং পরে অনেকবার কথা হয়েছে। ৮০ ঘণ্টায় ৮০ বার কথা বলেছে তারা। এর অর্থ ঘটনার আগে এবং পরে প্রতি ঘণ্টায় একবার, যা অস্বাভাবিক। এ কারণে হত্যার ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত হতে পারে।
প্রসঙ্গত, গত ২২ আগস্ট রাতে রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকায় তালাবদ্ধ বাড়ি থেকে রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী, মেয়ে ও ছেলেসহ একই পরিবারের চারজনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় একই এলাকা থেকে প্রতিবেশী মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাসকে গ্রেপ্তার করা হয়। নিহত গণপতি চক্রবর্তীর বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী বাদী হয়ে কোতয়ালী থানায় হত্যা মামলা করেন। আসামিরা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে হত্যার দায় স্বীকার করেন। মামলাটি বর্তমানে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরপিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ তদন্ত করছে।