October 8, 2026, 6:57 pm

কাউনিয়ায় কাঠের সাঁকো ভেঙে যাওয়ায় মানুষের চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি

এস, এম শাহাদৎ হোসাইন, রংপুর

রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার শহীদবাগ ইউনিয়নের প্রাণনাথ চর এলাকায় গুরুত্বপূর্ণ একটি কাঠের সাঁকো ভেঙে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছে অন্তত ১০টি গ্রামের হাজার হাজার মানুষ। দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ অবস্থায় থাকার পর স¤প্রতি সাঁকোটির একাংশ ভেঙে নদীতে পড়ে যাওয়ায় ব্যাহত হয়েছে এলাকার স্বাভাবিক যোগাযোগ ব্যবস্থা। এতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে কোমলমতি শিক্ষার্থী, গর্ভবতী নারী, বৃদ্ধ ও অসুস্থ মানুষ। এলাকাবাসী বলেন, সাঁকোটি ভেঙে যাওয়ার পর থেকে প্রাণনাথ চর ও আশপাশের এলাকার প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের যাতায়াত মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। অনেক শিক্ষার্থী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ডিঙি নৌকা কিংবা সাঁকোর অবশিষ্ট অংশ ব্যবহার করে নদী পারাপার করছে। এতে যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। আব্দুর রহমান নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, কাঠের সাঁকোটি ভেঙে যাওয়ায় প্রতিদিন স্কুলে যেতে অনেক সমস্যা হচ্ছে। নদী পার হতে ভয় লাগে সাঁকোটি দ্রæত ঠিক করা হলে আমাদের যাতায়াতে সমস্যা থাকবে না। আরেক শিক্ষার্থী আরিফা সুলতানা বলেন, বর্ষার সময় নদীতে পানি বেশি থাকায় ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। আমরা আশা করি কর্তৃপক্ষ দ্রæত ব্যবস্থা নিয়ে নিরাপদ যাতায়াতের সুযোগ করে দিবে। এদিকে গর্ভবতী নারী, বৃদ্ধ ও রোগীদের জরুরি চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। বিকল্প নিরাপদ যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকায় অনেককেই বাধ্য হয়ে ঝুঁকি নিয়ে নদী পার হতে হচ্ছে। আমিনুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি বলেন, সাঁকোটি ভেঙে যাওয়ায় এলাকাবাসীর দুর্ভোগ চরমে উঠেছে। বিশেষ করে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, নারী, শিশু ও অসুস্থ মানুষ বেশি সমস্যায় পড়েছে। আমাদের দাবি, বিষয়টি কর্তৃপক্ষ গুরুত্ব দিয়ে দ্রæত একটি নিরাপদ পারাপারের ব্যবস্থা করবে এবং স্থায়ী সেতু নির্মাণে উদ্যোগ নেবে। ননী গোলাল সরকার নামে আরেক ব্যক্তি বলেন, সোঁকোটি শুধু মানুষের চলাচলের জন্য নয়, কৃষিপণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাঁকোটি দ্রæত সংস্কার বা নতুন করে নির্মাণ করা হলে ১০ গ্রামের মানুষের দুর্ভোগ কমবে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রæত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি। তিস্তা নদী বেষ্টিত প্রাণনাথ চর ও আশপাশের এলাকাগুলো মূলত কৃষিনির্ভর। সাঁকোটি ভেঙে যাওয়ায় কৃষকরাও উৎপাদিত ধান, সবজি ও অন্যান্য কৃষিপণ্য সময়মতো হাট বাজারে নিয়ে যেতে পারছেন না। ফলে পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য পাওয়া নিয়েও শঙ্কায় রয়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। তাদের দাবি, জনদুর্ভোগ লাঘবে অবিলম্বে একটি নিরাপদ বিকল্প পারাপারের ব্যবস্থা করবে। পাশাপাশি প্রাণনাথ চর এলাকায় একটি স্থায়ী ও টেকসই সেতু নির্মাণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন এমন প্রত্যাশা তাদের। এ বিষয়ে কাউনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পাপিয়া সুলতানা বলেন, সাঁকোটি ভেঙে যাওয়ার বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। এলাকাবাসীর দুর্ভোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। দ্রæত সরেজমিনে পরিদর্শন করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে নিরাপদ পারাপারের ব্যবস্থা এবং স্থায়ী সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থী, নারী, বৃদ্ধ ও অসুস্থ মানুষের চলাচলে যেন কোনো ধরনের ঝুঁকি না থাকে, সে বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। জনদুর্ভোগ কমাতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।