নাটোরের বাগাতিপাড়ায় জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রায় ২৪ দশমিক ৮ একর জমি দখলের চেষ্টা, সীমানা প্রাচীর ভাঙচুর ও গাছ কাটার অভিযোগ উঠেছে ১২ জনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় মাওফুজ ওরফে আফজাল হোসেন মীর বাগাতিপাড়া মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগকারী ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা জানান, উপজেলার পাঁছুড়িয়া মৌজার জেএল নম্বর ৭৮-এর আরএস খতিয়ান নম্বর ১৮০৫ এবং আরএস দাগ নম্বর ৬৭৯৩-এর জমিটি তাঁদের বাবা আবুল কাশেম মীর ও চাচা মোশাররফ হোসেন মীরের ওয়ারিশসূত্রে পাওয়া সম্পত্তি।
অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ২৭ ও ২৮ আগস্ট অভিযুক্তরা দলবদ্ধ হয়ে ওই জমিতে প্রবেশ করেন। এ সময় সীমানা প্রাচীরের অংশবিশেষ ভাঙচুর এবং মেহগনি ও ফলদ গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ করা হয়েছে। তাঁদের হাতে দা, কোদাল, হাসুয়া, কাস্তে, করাতসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র ছিল বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগকারী আরও বলেন, জমিতে প্রবেশ ও ভাঙচুরে বাধা দিলে তাঁকে গালাগাল, ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। এ ঘটনায় প্রায় চার লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে তাঁর দাবি।
অভিযোগে ফিরোজ মাহমুদ শাওন, খালিদ হাসান সুমন, রেজাউল করিম বাবলু, মামুন মীর, লিমন, সুরুজ মীর, ঈদুল মীর ওরফে মকলেছ, শামীম মীর, রাজা মীর, আবদুল খাঁ, অভি মীর ও মো. রিপন মীরের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া আরও কয়েকজন অজ্ঞাত ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে।
এর আগেও বিরোধ ও হামলার অভিযোগ
অভিযোগকারী পরিবারের সদস্যরা জানান, এই জমি নিয়ে তাঁদের সঙ্গে প্রতিপক্ষের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এর আগেও কয়েক দফা বিরোধ ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে বলে তাঁদের দাবি। এসব ঘটনায় দেশীয় অস্ত্র ও চাইনিজ কুড়ালসহ বিভিন্ন অস্ত্র দেখিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগও রয়েছে।
পরিবারটির দাবি, আগের একটি ঘটনায় তাঁদের ওপর হামলা চালিয়ে কুপিয়ে ও আঘাত করে জখম করা হয়েছিল। ওই ঘটনায় শরীরের বিভিন্ন স্থানে কাটা-ছেঁড়া ও আঘাতের দাগ রয়েছে বলেও তাঁরা জানান। এ-সংক্রান্ত মামলা বর্তমানে আদালতে চলমান রয়েছে।
অভিযোগকারী পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, আগের মামলা চলমান থাকা অবস্থায় আবারও জমি দখলের চেষ্টা ও হুমকির ঘটনায় তাঁরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন। যেকোনো সময় তাঁদের ওপর আবারও হামলা হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তাঁরা। এ কারণে তাঁরা প্রশাসনের কাছে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, আইনগত ব্যবস্থা এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
বাগাতিপাড়া মডেল থানার ওসি সুমন চন্দ্র দাস বলেন, “অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”