গাজীপুরের কাপাসিয়া থানায় জমি বেচাকেনায় প্রাপ্য লভ্যাংশ ও খরচের টাকা আত্মসাৎ এবং পাওনাদারকে প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে এক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম মো: সাখাওয়াওত হোসেন (৫৫), পিতা-মৃত হাজী মোতাহার হোসেন, সাং-কাপাসিয়া। উল্লেখ্য, অভিযুক্ত সাখাওয়াত হোসেনের কিছুদিন আগে মদ্যপানের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছিল। কাপাসিয়া থানার সাফাইশ্রী এলাকার বাসিন্দা ও দলিল লেখক মাহফুজুর রহমান রাসেল (৪২) বাদী হয়ে এই অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগের মূল বিবরণ ও ঘটনাপ্রবাহ:
অভিযোগসূত্রে জানা যায়, অভিযোগকারী মাহফুজুর রহমান রাসেল কাপাসিয়া সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দীর্ঘদিন ধরে দলিল লেখক হিসেবে কর্মরত। সেই সূত্রে অভিযুক্ত সাখাওয়াওত হোসেনের সাথে তার বাণিজ্যিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। কাপাসিয়া থানাধীন সাফাইশ্রী মৌজায় অবস্থিত ২৬১ শতাংশ জমি অন্যত্র বিক্রির উদ্দেশ্যে প্রতি শতাংশ ২,৫০,০০০/- টাকা দরে ক্রয়ের চুক্তি করা হয়। চুক্তি অনুযায়ী, জমি বিক্রির পর প্রাপ্ত লভ্যাংশের ২০% শতাংশ বাদী (রাসেল) এবং ৮০% শতাংশ বিবাদী (সাখাওয়াওত) পাবেন মর্মে স্ট্যাম্পে অঙ্গীকারনামা সম্পাদিত হয়।
পরবর্তীতে উভয় পক্ষের মধ্যস্থতায় উক্ত ২৬১ শতাংশ জমির মধ্যে ১০০ শতাংশ জমি 'বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২'-এর নিকট প্রতি শতাংশ ৮,০০,০০০/- টাকা হিসেবে সর্বমোট ৮,০০,০০,০০০/- (আট কোটি) টাকায় বিক্রি করা হয়।
অর্থ লেনদেন ও প্রতারণার বিবরণ:
★ মোট বিক্রয়মূল্য: ৮,০০,০০,০০০/- টাকা।
★ জমির মূল মালিকের প্রাপ্য: ২,৫০,০০,০০০/- টাকা পরিশোধ করা হয়।
★ অবশিষ্ট লভ্যাংশ: ৫,৫০,০০,০০০/- (পাঁচ কোটি পঞ্চাশ লক্ষ) টাকা বিবাদীর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হয়।
★ বাদীর প্রাপ্য লভ্যাংশ (২০%): ১,১০,০০,০০০/- (এক কোটি দশ লক্ষ) টাকা।
উন্নয়ন ও আনুষঙ্গিক খরচ: উক্ত জমি ভরাট ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ক্রয়ের জন্য বাদীর নিজ পকেট থেকে পর্যায়ক্রমে ৪৭,০০,০০০/- (সাত চল্লিশ লক্ষ) টাকা খরচ হয়, যা বিক্রয় শেষে ফেরত দেওয়ার কথা ছিল।
সর্বমোট দাবি: লভ্যাংশ ও খরচ মিলিয়ে বাদীর পাওনা মোট ১,৫৭,০০,০০০/- (এক কোটি সাতান্ন লক্ষ) টাকা।
অভিযোগকারীর দাবি, বিবাদী সাখাওয়াওত হোসেন উক্ত ১০০ শতাংশ জমি নিজ নামে সাব-কবলা দলিল এবং অবশিষ্ট ১৬১ শতাংশ জমির আংশিক বায়নানামা দলিল করে নেন। তবে বাদীকে তার প্রাপ্য ১ কোটি ৫৭ লাখ টাকা বুঝিয়ে না দিয়ে ঘুরাতে থাকেন এবং প্রতারণামূলকভাবে আত্মসাটের অপচেষ্টা চালান।
সালিশ বৈঠক ও হুমকির অভিযোগ:
টাকা উদ্ধারে ব্যর্থ হয়ে বাদী বিষয়টি বিবাদীর মাতা, ভাই সোয়েব (অব. মেজর) এবং শাহরিয়ারগণসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের অবগত করেন। একাধিকবার কাপাসিয়া বাসস্ট্যান্ডের জমজম কার শোরুমে শালিসী বৈঠক হলেও বিবাদী টাকা পরিশোধের আশ্বাস দিয়ে পরবর্তীতে তা ভঙ্গ করেন।
অভিযোগে আরো উল্লেখ করা হয়, পাওনা টাকা চাওয়ায় বিবাদী অচেনা নম্বর ও লোক মারফত বাদীকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছিলেন। সর্বশেষ গত ২৪ জুলাই ২০২৬ তারিখ বেলা আনুমানিক ১১:৩০ ঘটিকায় বিবাদীর বাড়ির পাশে পাওনা টাকা চাইলে বিবাদী ক্ষিপ্ত হয়ে বাদীকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। টাকা পুনরায় চাইলে "খুন করে লাশ গুম করা" অথবা "মিথ্যা মামলা দিয়ে জেল খাটানোর" সরাসরি হুমকি দেন।
বর্তমান পরিস্থিতি:
এ ঘটনায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগে এবং জানমালের মারাত্মক ক্ষতির আশঙ্কায় মাহফুজুর রহমান রাসেল কাপাসিয়া থানায় উপস্থিত হয়ে আইনি প্রতিকার ও পাওনা টাকা উদ্ধারের জন্য অভিযোগ পত্র জমা দিয়েছেন। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে জানা গেছে।