October 8, 2026, 5:24 pm

প্রতিবন্ধীর ফ্ল্যাট দখলের চেষ্টা, চুক্তিভঙ্গ ও ১ কোটি ৫০লক্ষ চাঁদা দাবির অভিযোগ-জান্নাতুল ফেরদৌস ও স্বামী সবুজের বিরুদ্ধে

নিজস্ব প্রতিবেদক:

রাজধানী ঢাকার উত্তরায় একজন শারীরিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তির ফ্ল্যাটকে কেন্দ্র করে চুক্তিভঙ্গ, প্রতারণা, ভয়ভীতি প্রদর্শন, প্রভাব বিস্তার এবং প্রায় ১ কোটি ৫০লক্ষ টাকা চাঁদা দাবির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে জান্নাতুল ফেরদৌস ও তার স্বামী মো: সবুজের বিরুদ্ধে। ভুক্তভগী জালালুর রশিদ খাঁন এর অভিযোগে বলা হয়েছে, জান্নাতুল ফেরদৌস, স্বামী মো: সবুজ, সাং—বাড়ি #১, রোড #৫, সেক্টর #৪, উত্তরা, ঢাকা— ( ১০ র্পদার শোরুমের মালিক) তারা একজন শারীরিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তির সঙ্গে ফ্ল্যাট সংক্রান্ত একটি ব্যবসায়িক চুক্তিতে আবদ্ধ হন। চুক্তির সময় ফ্ল্যাটটি বন্ধক (Mortgage) রেখে ঋণের ব্যবস্থা করে দেওয়া এবং পরবর্তীতে চুক্তি অনুযায়ী ফ্ল্যাটের দখল বুঝিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি ভুক্তভোগীর।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, সরল বিশ্বাসে তিনি জান্নাতুল ফেরদৌসের অনুকূলে বিভিন্ন স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করেন এবং চুক্তির শর্তে সম্মত হন। কিন্তু পরবর্তীতে চুক্তি অনুযায়ী প্রতিশ্রুত অর্থ প্রদান না করে উল্টো ওই ফ্ল্যাটের ওপর নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা হয়।
চুক্তির পর অর্থ না দিয়ে নতুন করে চাপ ভুক্তভোগীর দাবি, চুক্তির পর জান্নাতুল ফেরদৌস ও তার স্বামী মো: সবুজ চুক্তির শর্ত পালন করেননি। বরং বিভিন্ন সময় চাপ সৃষ্টি করে ফ্ল্যাটটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে ভুক্তভোগীর কাছে প্রায় ১ কোটি ৫০লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়। ভুক্তভোগীর অভিযোগ, তিনি একজন শারীরিক প্রতিবন্ধী হওয়ায় তার দুর্বলতার সুযোগ নেওয়া হচ্ছে এবং বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে তাকে মানসিক চাপে রাখা হচ্ছে।
রাজনৈতিক ও প্রভাবশালী পরিচয় ব্যবহারের অভিযোগ ভুক্তভোগীর অভিযোগ, ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় মো: সবুজ তৎকালীন সরকারের পক্ষে মাঠপর্যায়ে সক্রিয় ছিলেন এবং রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে বিভিন্ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতেন। তবে এ অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এছাড়া সাবেক মন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাকের সঙ্গে আত্মীয়তার পরিচয় ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও ভুক্তভোগী করেছেন। তবে এসব রাজনৈতিক ও পারিবারিক সম্পর্কের দাবি এবং আন্দোলনের সময় তার ভূমিকার বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য এই প্রতিবেদকের হাতে নেই। অভিযোগকারী আরও দাবি করেছেন, জান্নাতুল ফেরদৌস ও তার স্বামী মো: সবুজ নব বিএমপিতে যোগদিয়ে, বিভিন্ন রাজনৈতিক ও প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম ব্যবহার করে নিজেকে প্রভাবশালী হিসেবে পরিচয় দেন। এর মাধ্যমে জমি, ফ্ল্যাট ও ব্যবসায়িক বিরোধে চাপ সৃষ্টি করার অভিযোগও রয়েছে।
ভুক্তভোগীর দাবি, অতীতে রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাবের কথা বলে তারা বিভিন্ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেছিলেন। বর্তমানে নতুন রাজনৈতিক পরিচয় বা রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার নাম ব্যবহার করেও প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। তবে এসব রাজনৈতিক পরিচয়, প্রভাব এবং সংশ্লিষ্টতার অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা এই প্রতিবেদনের মাধ্যমে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগ ভুক্তভোগীর ভাষ্য অনুযায়ী, ব্যবসায়িক চুক্তির সময় তাকে বিভিন্ন স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করানো হয়। তিনি দাবি করেন, চুক্তির উদ্দেশ্য ও শর্তের ওপর আস্থা রেখেই তিনি এসব কাগজে স্বাক্ষর করেছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে ওই স্বাক্ষর করা স্ট্যাম্প ও চুক্তিপত্রকে ব্যবহার করে তার বিরুদ্ধে চাপ সৃষ্টি এবং সম্পত্তির ওপর দাবি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
ভুক্তভোগী বলেন, চুক্তির বিরোধের পর থেকে তিনি ও তার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন। মামলা-মোকদ্দমা, হামলা ও বিভিন্ন ধরনের হয়রানির ভয় দেখানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তার দাবি, একটি ফ্ল্যাটকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিরোধ এখন তার ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও সম্পত্তির নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা দাবি ভুক্তভোগী সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনের কাছে বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে চুক্তিপত্র, স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর, আর্থিক লেনদেনের তথ্য, ফ্ল্যাটের মালিকানার কাগজপত্র এবং কথিত হুমকি-ভয়ভীতির বিষয় তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন তিনি। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৪-০৮-২০২৬ইং তারিখে গুলশান থানা ডি এমপি ঢাকা, তিনি একটি সাধারণ ডায়েড়ী করেন, যার- জিডি নম্বর: ১৪০১ ।
তিনি আরও বলেন, “আমি একজন প্রতিবন্ধী মানুষ। সরল বিশ্বাসে চুক্তি করেছিলাম। এখন আমাকে ভয় দেখিয়ে আমার সম্পত্তি ও অর্থের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। আমি ন্যায়বিচার চাই এবং আমার নিরাপত্তা চাই।
অভিযুক্তদের বক্তব্য জান্নাতুল ফেরদৌস ও তার স্বামী মো: সবুজের বিরুদ্ধে উত্থাপিত এসব অভিযোগের বিষয়ে তাদের বক্তব্য এই প্রতিবেদনের সময় পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা অভিযোগের জবাবসহ পরবর্তী প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হবে।