নাটোরের বাগাতিপাড়ায় ফ্যামিলি কার্ড শুমারি-২০২৬-এর তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগের ফলাফল প্রকাশকে কেন্দ্র করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে বিক্ষোভের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ইউএনওর কক্ষের দরজায় লাথি দেওয়া এবং উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা ও উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের ধাক্কাধাক্কির অভিযোগ উঠেছে।
বুধবার (১২ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলা পরিষদের দ্বিতীয় তলায় ইউএনওর কার্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, ফ্যামিলি কার্ড শুমারি-২০২৬-এর তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগের ফলাফলে রাজনৈতিক পক্ষপাত করা হয়েছে। তাঁদের দাবি, আওয়ামী লীগ-ঘনিষ্ঠদের সুযোগ দেওয়া হলেও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বাদ দেওয়া হয়েছে। তাঁরা প্রকাশিত ফলাফল বাতিল করে পুনরায় যাচাই-বাছাইয়ের দাবি জানান।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘটনার কিছুক্ষণ আগে উপজেলার মালঞ্চি রেলগেট এলাকা থেকে উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সোহেল রানার নেতৃত্বে একটি মিছিল বের হয়। মিছিলটি উপজেলা পরিষদে গিয়ে ইউএনওর কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেয়। একপর্যায়ে সেখানে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে কয়েকজন বিক্ষোভকারী ইউএনওর কক্ষের দরজায় লাথি দেন বলে অভিযোগ ওঠে।
এ সময় উপজেলা প্রশাসনের কয়েকজন কর্মকর্তা ও ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের বাগ্বিতণ্ডা ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। পরে কর্মকর্তা ও সাংবাদিকদের লাঞ্ছিত করার অভিযোগও ওঠে।
ঘটনাস্থলে উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সোহেল রানা, পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোতালেব হোসেন পান্না, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মোশারফ হোসেন ও মোস্তাফিজুর রহমান শফিক এবং পাঁকা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমদাদুল হক দুলুসহ বিএনপি, ছাত্রদল ও যুবদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
বিক্ষোভকারীরা দাবি করেন, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখা হয়নি। তাঁদের অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দেবাশীষ বসাকের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে ইউএনওর কার্যালয়ের দরজায় লাথি দেওয়া এবং কর্মকর্তা ও সাংবাদিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগের বিষয়ে বিক্ষোভকারীদের পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনার পর উপজেলা পরিষদ এলাকায় কিছু সময় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেখানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
এ বিষয়ে বাগাতিপাড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হান্নানের বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলেও তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।