দিনাজপুর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডে এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে পাসের হার কমেছে। এক বছরের ব্যবধানে এই বোর্ডে পাসের হার ৮ দশমিক ৯৮ শতাংশ কমে ৫৮ দশমিক ০৫ শতাংশে নেমে এসেছে। পাসের হারের পাশাপাশি জিপিএ-৫ এর হারও কমেছে। একজন শিক্ষার্থীও পাস করতে পারেনি এমন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যাও বেড়েছে। আজ ১০ আগস্ট সোমবার দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর মো. বোরহান উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই ফলাফল প্রকাশ করা হয়। প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়, চলতি বছর এই বোর্ডে পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫৮ দশমিক ০৫ শতাংশে। গত বছর পাশের হার ছিল ৬৭.০৩। গত বছরের তুলনায় চলতি বছর পাসের হার কমেছে ৮ দশমিক ৯৮ শতাংশ। জানা যায়, রংপুর বিভাগের ৮টি জেলার মোট ১ লক্ষ ৮৩ হাজার ৬৯৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ১ লক্ষ ৪ হাজার ৯২৫ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১৩ হাজার ৬৩৯ জন। এর মধ্যে ৭ হাজার ১৫২ জন ছাত্রী ও ৬ হাজার ৪৮৭ জন ছাত্র। শূন্য পাস করেছে ১৮টি বিদ্যালয়। দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার নেমে এসেছে ৫৮ দশমিক ৫ শতাংশে, যা গত সাত বছরের মধ্যে সর্বনি¤œ। গত বছর পাসের হার ছিল ৬৭ দশমিক ৩ শতাংশ। এক বছরের ব্যবধানে পাসের হার কমেছে ৮ দশমিক ৯৮ শতাংশ। শুধু পাসের হার নয়, এবার উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীর সংখ্যা ও জিপিএ-৫ পাওয়ার সংখ্যাও কমেছে। বোর্ডের গত সাত বছরের ফলাফল বিশ্লেষণে এ চিত্র পাওয়া গেছে। বোর্ডের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১ লক্ষ ৮৩ হাজার ৬৯৪ জন। এর মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নেয় ১ লক্ষ ৮০ হাজার ৭৫২ জন। তাঁদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ১ লক্ষ ৪ হাজার ৯২৫ জন। অর্থাৎ ৭৮ হাজার ৭৬৯ জন পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণ হতে পারেনি। এছাড়া ২ হাজার ৯৪১ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অনুপস্থিত ছিল। গত বছর দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল ১ লক্ষ ৮২ হাজার ২৩৪ জন। উত্তীর্ণ হয়েছিল ১ লক্ষ ২২ হাজার ১৪৬ জন। সে হিসাবে এবার উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ১৭ হাজার ২২১ জন। দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের সাত বছরের ফলাফল পর্যালোচনা করলে এবারের পতনের চিত্র আরও ¯পষ্ট হয়। ২০২১ সালে এ বোর্ডে পাসের হার ছিল ৯৪ দশমিক ৮০ শতাংশ। ২০২২ সালে তা কমে দাঁড়ায় ৮১ দশমিক ১৬ শতাংশে। ২০২৩ সালে পাসের হার ছিল ৭৬ দশমিক ৮৭ শতাংশ। ২০২৪ সালে সামান্য বেড়ে হয় ৭৮ দশমিক ৪৩ শতাংশ। এরপর ২০২৫ সালে তা নেমে আসে ৬৭ দশমিক ৩ শতাংশে। এবার আরও কমে দাঁড়িয়েছে ৫৮ দশমিক ৫ শতাংশে। ২০২১ সালের তুলনায় ২০২৬ সালে পাসের হার কমেছে ৩৬ দশমিক ৭৫ শতাংশ। আর গত বছরের তুলনায় কমেছে ৮ দশমিক ৯৮ শতাংশ। পাসের হারের পাশাপাশি সর্বোচ্চ ফল জিপিএ-৫ পাওয়ার সংখ্যাতেও পতন হয়েছে। এবার দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৩ হাজার ৬৩৯ জন। এর মধ্যে ছাত্র ৬ হাজার ৪৮৭ জন এবং ছাত্রী ৭ হাজার ১৫২ জন। ২০২৫ সালে এ বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছিল ১৫ হাজার ৬২ জন। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ১ হাজার ৪২৩ জন। জিপিএ-৫ প্রাপ্তিতে অবশ্য এবারও ছাত্রীরা এগিয়ে রয়েছে। মোট জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর মধ্যে ছাত্রীর সংখ্যা ৭ হাজার ১৫২ জন। এ বিষয়ে দিনাজপুর মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ইলিয়াস আহমেদ বলেন, ফলাফল কেন কমেছে, এর কারণ জানতে হলে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে হবে। কোথায় সমস্যা হচ্ছে, তা পর্যালোচনা না করে এখনই বলা সম্ভব নয়। আমরা আগে ফলাফল পর্যালোচনা করব। মোটামুটি এবার সব শিক্ষা বোর্ডেই ফলাফল কিছুটা কমেছে।