October 8, 2026, 7:43 pm

সাদুল্লাপুরে মৌসুমের শুরুতে আমন ধানের চারার দাম বেশি

এস,এম শাহাদৎ হোসাইন, রংপুর

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলায় আমন রোপণের মৌসুমের শুরুতে বেশি দামে ধানের চারা ক্রয় করতে হচ্ছে। ফলে আমন ধান উৎপাদনের শুরুতে বিপাকে পড়েছে কৃষক। গাইবান্ধা শহরের খানকা শরিফ এলাকা থেকে সাদুল্লাপুর হাটে আমন ধানের চারা ক্রয় করতে আসা মুক্তা বেগম বলেন, এক বিঘা জমিতে ধান রোপণের জন্য সাড়ে তিন হাজার টাকার আমন ধানের চারা ক্রয় করা হয়েছে। এর সঙ্গে যোগ হবে পরিবহন খরচ, শ্রমিকের মজুরি, হাল-চাষ,সার-কীটনাশক, আগাছা পরিষ্কারসহ অন্যান্য খরচ। বাড়তি খরচের কারণে এবার আমন ধান চষে লোকসানের আশঙ্কা রয়েছে। বৃষ্টি-বন্যার পর শুরু হয়েছে আমন ধানের চারা রোপণ। কৃষকরা ব্যস্ত চারা সংগ্রহ এবং রোপণ কাজে। কৃষি বিভাগের তথ্যমতে চলতি মৌসুমে বন্যায় সাদুল্লাপুর উপজেলায় ৪৭ হেক্টর আমন বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে চারার সংকট দেখা দিয়েছে। কৃষকরা বিভিন্ন হাটে গিয়ে উচ্চমূল্যে চারা সংগ্রহ করতে বাধ্য হচ্ছে। ৭ আগস্ট শুক্রবার সাদুল্লাাপুর উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারের দেখা যায় কৃষক আমন ধানের চারা কেনাবেচা করছেন। হারুন অর রশিদ নামে এক চারা বিক্রেতা বলেন, গুটি স্বর্ণা, স্বর্ণা ফাইভ ও মামুন স্বর্ণা জাতের চারায় ফলন বেশি। এ কারণে আমনের এই জাতগুলোর চারার দাম বেশি। আব্দুর রহমান সরকার নামে এক ক্রেতা বলেন, গত বছরের তুলনায় এবার প্রায় দ্বিগুণ দামে আমন ধানের চারা ক্রয় করতে হচ্ছে। এভাবে উচ্চমূল্যে চারা ক্রয় করে রোপণ করলে আমন ধান চাষে লোকসান গুনতে হবে। ধাপেরহাটে পাইকার খয়বার হোসেন বলেন, প্রতি পণ (৮০ মোটা) বৈলান চারা এক হাজার একশত টাকার নিচে বিক্রি করলে লোকসান হবে। হাটে চারাভেদে সর্বনি¤œ ৮০০ শত থেকে শুরু করে এক হাজার দুইশত টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সাদুল্লাপুর হাটের ইজারাদার আল-আমিন মিয়া বলেন চারা বিক্রির এই হাটটি দীর্ঘ দিনের পুরোনো। দূরদূরান্ত থেকে এখানে ক্রেতা-বিক্রেতা আসে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কেনাবেচা হয়। ক্রেতা-বিক্রেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাসহ হাটে যেন কেউ প্রতারিত না হন সেটি নিশ্চিত করা হয়। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কাজীবাড়ী সন্তোলা গ্রামের কৃষক আসাদুল ইসলাম বলেন, সরকারিভাবে কৃষকদের জন্য দ্রæত প্রণোদনার ব্যবস্থা করতে হবে। তা না করলে কৃষকরা ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে পারবেন না। জয়েনপুর গ্রামের কৃষক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, সরকার প্রণোদনার ব্যবস্থা না করলে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন না। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা অপূর্ব ভট্টাচার্য বলেন, আমন ধান কাটার পর নতুন ধানের উপযুক্ত মূল্য পেলে কৃষকরা লোকসানে পড়বেন না। তিনি আরও বলেন, এখন পর্যন্ত সরকারিভাবে কোনো প্রণোদনা কিংবা সহযোগিতা আসেনি। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের ক্ষতিপূরণের বিষয়ে কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আবেদন করা হয়েছে।