October 8, 2026, 9:08 pm

নিজেদের কার্যক্রম গুটিয়ে নিচ্ছে র‍্যাব

মুজিবুল হাসান ছোটন, কক্সবাজার:

২২ বছর প্রতিষ্ঠার পর নিজের কার্যক্রম গুটিয়ে নিচ্ছে এলিট ফোর্স র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন র‍্যাব। প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকেই অপরাধ দমন ও সন্ত্রাস বিরোধী অভিযান চালিয়ে ব্যাপক প্রশংসা কুড়ালেও, বিভিন্ন সময় বাহিনীটির বিরুদ্ধে বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড গুম, নির্যাতন এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের মতো গুরুতর অভিযোগ উঠে। এসব অভিযোগ দেশ বিদেশে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয় এবং র‍্যাবকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক অব্যাহত থাকে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি র‍্যাবের অভিযানে বহু ব্যক্তি ক্রসফায়ার বা বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে। যাদের অনেক ঘটনাকেই বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া জোর পূর্বক গুম ও আটক ব্যক্তিদের নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগ ও বিভিন্ন সময় সামনে আসে। এইসব অভিযোগের কারণে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বাহিনীটি সমালোচনার মুখে পড়ে। বিশেষ করে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্র র‍্যাব এবং এর কয়েকজন কর্মকর্তার উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে, যা বাহিনীটির আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলে।একি সঙ্গে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা র‍্যাবের কর্মকান্ড নিয়ে উদ্বভেগ প্রকাশ করে এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানায়। এই অবস্থায় র‍্যাবকে বিলুপ্ত করে নতুন নামে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (SRB) গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।এই লক্ষ্যে সরকার স্পেশাল ব্যাটলিয়ন (এস.আর.বি) আইন ২০২৬ইং এর একটি খসড়া জনমতের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। খসড়ায় র‍্যাবের বিদ্যামান কাঠামোকে আইনি বৃত্তি দিয়ে বাংলাদেশ পুলিশের অধিনে একটি বিশেষায়িত ইউনিট গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে।একি সঙ্গে বাহিনীরটির দায়িত্ব ও অভিযান পরিচালনার ক্ষমতা মামলা তদন্ত সদস্যদের শৃঙ্খলা এবং নাগরিকদের অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য পৃথক অভিযোগ প্রতিকার কমিটি গঠনের বিধান রাখা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে খসড়াটি চূড়ান্ত হওয়ার পর বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মতামত নিয়ে মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে। সেখানে অনোমদন পেলে আইনটি জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হবে। নতুন আইন কার্যকর হলে র‍্যাব সংক্রান্ত বিদ্যমান আইনি বৃত্তি বিলুপ্ত হবে। তবে নতুন বিধিমালা প্রণিত না হওয়া পর্যন্ত আগের কিছু বিধান কার্যকর থাকবে। খসড়া অনুযায়ী পরিবর্তন আনা হচ্ছে প্রতিক, পতাকা এবং পোশাকেও। তবে বাংলাদেশ পুলিশের অধিন একটি বিশেষায়িত ইউনিট হিসেবে থাকছে (এসে.আর.বি)।এর নেতৃত্বে থাকবেন অতিরিক্ত আইজিপি পদমর্যাদার একজন মহাপরিচালক। নতুন এই বাহিনীর কাজ হবে দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা রক্ষা, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার,ও বিস্ফোরক উদ্ধার। মাদকদ্রব্য দমন, সাইবার অপরাধ মুখাবিলা, মানবপাচার ও সংঘবদ্ধ অপরাধ দমন, সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধ এবং অন্যান্য আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে সহায়তা করা। এছাড়া আদালত, সরকার কিংবা পুলিশের মহাপরিদর্শক অর্থাৎ আইজিপির নির্দেশে মামলা দায়ের ও তদন্ত পরিচালনার ক্ষমতাও দেওয়া হয়েছে। ফৌজদারি কার্যবিধি অনুসরণ করে (আস.আর.বি) সদস্যরা নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে তল্লাশি,জব্দ ও গ্রেপ্তার করতে পারবেন। মাদক, অস্ত্র,গুলাবারদ, বিস্ফোরক, সন্ত্রাসী আস্তানা, মানবপাচার সংঘবদ্ধ অপরাধ, সাইবার অপরাধ কিংবা রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বিরোধী অপরাধের ক্ষেত্রে অভিযান পরিচালনার ক্ষমতা থাকবে বাহিনিটির হাতে।