সাতক্ষীরা-৪ আসনের জামায়াত ইসলামীর সংসদ সদস্য (এমপি) গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে রাজধানী ঢাকার একটি হোটেলে এক তরুণীর অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভাইরাল ভিডিওটি নিয়ে দেশজুড়ে চলছে সমালোচনার ঝড়।
তবে এ ঘটনায় এমপি গাজী নজরুল ওই তরুণীকে তার দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম বলে দাবি করেছেন।
মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তরুণীর সঙ্গে ভাইরাল ভিডিও সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার সাথে তার (তরুণী) স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক।
এদিকে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া আরেকটি ভিডিওতে এমপি গাজী নজরুলকে বলতে শোনা যায়, আমি একবারই ওকে (তরুণী) নিয়ে হোটেলে আসছি বিশ্বাস করেন। হোটেল আমি ভাড়া করিনি, আমার ড্রাইভার ভাড়া করেছে।
হাতজোড় করে মাপ চাওয়ার ভঙ্গিতে তিনি বলেন, আমি অন্যায় করেছি। আমাকে ছেড়ে দেন বাবা।
এ সময় ওই ভিডিওতে তরুণীকে কয়েকজন যুবকের প্রশ্ন করতে দেখা যায়। তখন ওই তরুণীর নাম জিজ্ঞাসা করতেই তিনি বলেন, আমার নাম মাহিয়া। তারপর ওই তরুণী সব ভিডিও ডিলিট করতে অনুরোধ করেন এবং তার বাসা মিরপুর বলে দাবি করেন।
এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের একটি জীবনবৃত্তান্ত (বায়োডাটা) ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে ওই বায়োডাটায় উল্লেখ রয়েছে, মরিয়ম খাতুন ২০০৮ সালের ২২ মে জন্মগ্রহণ করেন এবং ২০২৬ সালে ঢাকা বোর্ডের অধীনে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন। শিক্ষাগত যোগ্যতার বিবরণীর পাশাপাশি তার বৈবাহিক অবস্থার ঘরে স্পষ্ট লেখা রয়েছে তিনি ‘অবিবাহিত’।
ছড়িয়ে পড়া সেই বায়োডাটায় এমপির সুপারিশও আছে। সেখানে দেখা যায়, গত ২২ জুন সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম নিজে তাতে সুপারিশ করে স্বাক্ষর করেছেন।
এদিকে, দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে ওই তরুণীর বাবা মাসুম বিল্লাহ জানান, গত ১৭ জুন মগবাজারে তার নিজস্ব কার্যালয়ে এমপি নজরুল ইসলামের সাথে তার মেয়ে মরিয়ম আক্তারের বিয়ে সম্পন্ন হয়। ৩ লাখ টাকা দেনমোহরে এ বিয়ে অনুষ্ঠিত হয়। পরে ১৩ জুলাই এমপি ও তার পরিবার তার কার্যালয়ে বিশ্রামের সময় ভিডিওটি গোপনে ধারণ করা হয়। তিনি এই ষড়যন্ত্রের জন্য তার সাবেক সহকারী ও শ্যালক ওবায়দুল্লাহকে দায়ী করেন।
গাজী নজরুল ইসলামের প্রথম স্ত্রী মাকসুদা ইসলামের সাথে সরাসরি ফোনে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তবে জামায়াত ইসলামীর পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের কাছে পাঠানো ২৯ সেকেন্ডের একটি ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, আমার স্বামীর সাথে মরিয়মের বিয়ে হয়েছে। এটা নিয়ে যারা কুৎসা রটাচ্ছে, আমি সেটার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। এ ধরনের অসত্য প্রচার থেকে বিরত না থাকলে আমি আইনি ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হব।
মরিয়মের বাবা মাসুম বিল্লাহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে এক ভিডিওতে বলেন, গত ১৩ জুলাই এমপি সাহেবকে নিয়ে যে ভিডিও পোস্ট করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণভাবে আমাদের সামাজিকভাবে হেনস্তা করার উদ্দেশ্যে করা হয়েছে। গত ১৭ জুন মঙ্গলবার আমার বড় মেয়ে মরিয়ম আক্তারের সাথে এমপি সাহেবের বিয়ে হয়। বিয়ের সময় তার প্রথম স্ত্রীসহ আমরা উভয় পরিবারের সকলে উপস্থিত ছিলাম।
বিতর্কের বিষয়ে দেশবাসীর কাছে এ ঘটনা সম্পর্কে কথিত দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম বেগম ভিডিওতে বলেন, আমি সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী। আমাদের বিয়ে কোনো গোপন বা অনৈতিক বিষয় নয়। ২০২৬ সালের ১৭ জুন শ্যামনগরে আমার বাবার বাসায় উভয় পরিবারের সম্মতিতে আমাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। এ সময় আমার স্বামীর প্রথম স্ত্রীও উপস্থিত ছিলেন।
তিনি আরও যোগ করেন, গত ১৩ জুলাই দুই স্ত্রীকে নিয়ে ঢাকা মগবাজারে আমার বাবার অফিসে যাওয়া একটি সম্পূর্ণ পারিবারিক সফর ছিল। সেখানে পরিকল্পিতভাবে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি করা হয় এবং আমাদের স্বামী-স্ত্রীর ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে মানহানি ও হেনস্তা করা হচ্ছে। এটা থেকে বিরত না থাকলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।