মাদারীপুরে শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে জেলা জুঁড়ে পরিচিত রিপন সওদাগরের (৪৮) নাম। তাঁর দাপটে স্থানীয় সাধারণ মানুষও অসহায় হয়ে পড়েছেন। তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে চলতি বছর ২৫ জুন একটি মামলা হয়েছে। এ ছাড়াও তার বিরুদ্ধে ২০০৯ সাল থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত মাদারীপুর সদর মডেল থানায় ৭টি মাদকসহ বিভিন্ন ধারায় মামলা রয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, মাদক সম্রাট রিপনের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা থাকলেও তিনি সব সময়ই পুলিশের ধরাছোঁয়ার বাহিরে।
রিপন সওদাগরের বাড়ি মাদারীপুর সদর উপজেলার কেন্দুয়া ইউনিয়নের ঘটকচর এলাকার সাজন সওদাগরের ছেলে। তিনি এলাকায় ফেনসিডিল ও ইয়াবা ব্যবসায়ী হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, মাদক সম্রাট রিপন সওদাগর দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে মাদারীপুর জেলার ছাড়াও বিভিন্ন এলাকায় বিভিন্ন প্রকার মাদকদ্রব সরবারহ ও বিক্রি করে আসছেন। তার সঙ্গে মাদক কেনাবেচা চক্রে আরও বেশ কয়েকজন জড়িত রয়েছে। এ কারণে এলাকাভিত্তিক রিপনের দাপট থাকায় স্থানীয় রাজনীতিও তার নিয়ন্ত্রণে। অভিযোগ আছে, পুলিশ ও মাদকদ্রব নিয়ন্ত্রণ কার্যালয়েও তার দাপট রয়েছে। তাদের ম্যানেজ করে তিনি গড়ে তুলেছেন মাদকের সম্রাজ্য।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রিপনের বিরুদ্ধে ২০০৯ সালে প্রথম বারের মত সদর মডেল থানায় মাদক আইনে মামলা হলে তিনি সাউথ আফ্রিকায় পাড়ি জমায়। কয়েক বছর বিদেশ করার পরে দেশে ফিরে আবারও বড় ধরনের মাদক কারবার শুরু করেন। সে ফেনসিডিল, ইয়াবাসহ অন্যান্য মাদকদ্রব্য সরবরাহ করে দেশের যুব সমাজকে ধংশের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। গত জুন মাসে প্রশাসন তার বাড়িতে অভিযান চালালেও সে থাকে ধরাছোয়ার বাহিরে। এখনো দাপটের সঙ্গে তার মাদক কারবার চলতে থাকায় এলাকার যুবসমাজের ক্ষতি করে চলছে। এলাকাবাসী তাকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে মাদক ব্যবসা বন্ধের দাবি জানিয়েছেন।
মাদারীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের জিরো টলারেন্স নীতি রয়েছে। কোন মাদক কারবারিকে ছাড় দেওয়া হবে না। রিপন সওদাগরকেও ধরতে আমাদের পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।