দীর্ঘ সাত বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে চালু হলো মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার ভূরঘাটা পৌর বাস টার্মিনাল। প্রায় ২ কোটি ৫৫ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত এ টার্মিনাল চালুর ফলে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে দীর্ঘদিনের যানজট, ঝুঁকি নিয়ে যাত্রী ওঠানামা এবং দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের ভোগান্তি অনেকটাই কমবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) দুপুরে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কসংলগ্ন ভূরঘাটা পৌর বাস টার্মিনাল প্রাঙ্গণে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল শেষে ফিতা কেটে টার্মিনালটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন মাদারীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-গণশিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক আনিছুর রহমান তালুকদার খোকন।
উদ্বোধন শেষে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমপি খোকন বলেন, “এই বাস টার্মিনাল নির্মাণ করলেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। এটিকে পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল রাখা আমাদের সবার দায়িত্ব। তারেক রহমান একটি পরিচ্ছন্ন, আধুনিক ও উন্নত বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখছেন। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “আপনারা এমনভাবে টার্মিনালটি পরিচালনা করবেন, যাতে এটি দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম আদর্শ বাস টার্মিনাল হিসেবে পরিচিতি পায়। জনগণের সম্পদ রক্ষা করা এবং জনসেবামূলক স্থাপনাগুলো পরিচ্ছন্ন রাখা নাগরিক দায়িত্ব। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টাতেই একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।”
ভূরঘাটা ঢাকা বিভাগের সঙ্গে বরিশাল বিভাগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ। দীর্ঘদিন ধরে এখানে কোনো নির্ধারিত বাস টার্মিনাল না থাকায় ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের ওপরই বাস থামিয়ে যাত্রী ওঠানামা করানো হতো। এতে প্রায়ই তীব্র যানজট সৃষ্টি হওয়ার পাশাপাশি দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়ে যাত্রীদের চলাচল করতে হতো।
কালকিনি পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালের মে মাসে কালকিনি উপজেলার মজিদবাড়ি মৌজায় ১ একর ৩০ শতাংশ জমির ওপর বাস টার্মিনাল নির্মাণের কাজ শুরু হয়। প্রায় ২ কোটি ৫৫ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণকাজ ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে শেষ করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মিজান এন্টারপ্রাইজ। তবে পরিকল্পনাগত কিছু সীমাবদ্ধতা এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো পুরোপুরি প্রস্তুত না হওয়ায় দীর্ঘদিন টার্মিনালটি চালু করা সম্ভব হয়নি।
চালু না হওয়ায় দীর্ঘ সময় পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকা টার্মিনালটি সন্ধ্যার পর মাদকসেবী ও বখাটেদের আড্ডাস্থলে পরিণত হয়। অন্যদিকে মহাসড়কের ওপর বাস দাঁড় করিয়ে যাত্রী ওঠানামা করানোর কারণে প্রতিদিন দুর্ভোগ পোহাতে হতো যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিকদের।
পদ্মা সেতু চালুর পর ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে যানবাহনের চাপ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। বিশেষ করে ভূরঘাটা এলাকায় ব্যাটারিচালিত রিকশাসহ বিভিন্ন যানবাহনের কারণে প্রায়ই যানজট সৃষ্টি হতো। বাস থামলে চলন্ত যানবাহনের ফাঁক গলে ঝুঁকি নিয়ে যাত্রীদের ওঠানামা করতে হতো।
যাত্রী আফিয়া বেগম, কামাল হোসেন, আসমা বেগম ও মিনহাস হোসেন বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে আমরা একটি বাস টার্মিনালের অপেক্ষায় ছিলাম। এখন নিরাপদে বাসে ওঠানামা করা যাবে। এতে যাত্রীদের ভোগান্তি যেমন কমবে, তেমনি মহাসড়কের যানজটও অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসবে।”
সাকুরা পরিবহনের চালক মো. মামুন বলেন, “এতদিন মহাসড়কের ওপর যাত্রী ওঠানামা করাতে হতো। এতে চালক ও যাত্রী উভয়ই ঝুঁকিতে থাকতেন। টার্মিনাল চালু হওয়ায় এখন পরিবহন চলাচল আরও শৃঙ্খল হবে।”
স্থানীয় বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, “পাঁচ বছরের বেশি সময় টার্মিনালটি পরিত্যক্ত থাকায় এটি মাদকসেবী ও বখাটেদের আড্ডাস্থলে পরিণত হয়েছিল। এখন চালু হওয়ায় এলাকার পরিবেশ যেমন ভালো হবে, তেমনি সাধারণ মানুষের দুর্ভোগও কমবে।”
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কালকিনি উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ফজলুল হক বেপারী, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহবুব হোসেন মুন্সী, কালকিনি পৌরসভার প্রকৌশলী রাকিব হোসেনসহ বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, ভূরঘাটা পৌর বাস টার্মিনাল চালুর মাধ্যমে শুধু একটি অবকাঠামোর উদ্বোধনই হয়নি; বরং দক্ষিণাঞ্চলের লাখো মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি লাঘবের নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো।