প্রবীণ রাজনীতিবিদ, বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার, সাবেক ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী এবং বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সিনিয়র সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভাইস-চ্যান্সেলর) প্রফেসর ড. এ এস এম আমানুল্লাহ।
রোববার (১২ জুলাই) এক শোকবার্তায় উপাচার্য বলেন, “ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার ছিলেন বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্র, আইন অঙ্গন এবং শিক্ষা ব্যবস্থার এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। দেশের আইন প্রণয়ন, সংসদীয় ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং শিক্ষা বিস্তারে তাঁর অবদান জাতি দীর্ঘদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।”
তিনি আরও বলেন, শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার দেশের উচ্চশিক্ষা ও সামগ্রিক শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। বিশেষ করে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মানোন্নয়নে তাঁর দূরদর্শী নেতৃত্ব ও সৃজনশীল উদ্যোগ উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছে। তিনি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শুভানুধ্যায়ী ও সবসময়ের সুহৃদ ছিলেন।
উপাচার্য বলেন, তাঁর মৃত্যুতে দেশের রাজনৈতিক, আইন ও শিক্ষা অঙ্গনের এক অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে।
শোকবার্তায় প্রফেসর ড. এ এস এম আমানুল্লাহ মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। একই সঙ্গে ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের মৃত্যুতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের পক্ষ থেকেও গভীর শোক প্রকাশ করা হয়।
উল্লেখ্য, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আমলে গণপূর্ত ও নগর উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে রাজনৈতিক জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় শুরু করেন। পরে রাষ্ট্রপতি আবদুস সাত্তারের মন্ত্রিসভায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯১ সালে বিএনপি সরকার গঠনের পর তিনি ভূমি প্রতিমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৬ সালে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০১ সালে অষ্টম জাতীয় সংসদের স্পিকার নির্বাচিত হন এবং ২০০২ সালের ২১ জুন থেকে ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন।