সংবাদ সম্মেলনে সামসুদ্দিন মিয়া ঝুনুর অভিযোগ: ‘আমার বিরুদ্ধে জামাত নেতার আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’
ফরিদপুরের বোয়ালমারী পৌর এলাকায় একটি সংবাদ সম্মেলনে নিজের বিরুদ্ধে আনা বিভিন্ন অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন সাবেক ভিপি, বোয়ালমারী সরকারি কলেজ ছাত্রদল সংসদ এবং বোয়ালমারী উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্নু সাধারণ সম্পাদক সামসুদ্দিন মিয়া ঝুনু।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, সম্প্রতি বোয়ালমারী পাঞ্জেরী একাডেমী প্রাঙ্গনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লেবাসধারী পৌর জামাত নেতা তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর তথ্য উপস্থাপন করেছেন যা সম্পুর্ন অসত্য এবং বানোয়াট। বিশেষ করে রেলওয়ের জমি দখল, বিক্রি ও অনিয়মের সঙ্গে আমাকে জড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ অসত্য ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
তিনি দাবি করেন, বোয়ালমারী পৌর জামায়াতে ইসলামীর আমীর সৈয়দ নিয়ামুল হাসান তার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করেছেন, তার কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই। বরং রেলওয়ের দীর্ঘমেয়াদি লিজকৃত জমি নিয়ে তারা বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করছেন।
সামসুদ্দিন মিয়া ঝুনু তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন,
বোয়ালমারী পৌর সদরের হাতপাতাল সংলগ্ন রেলওয়ের জমিটি জামাত নেতা আবুল কাশেম মাহমুদের নামে বন্দবস্ত দেয় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।
নিয়মানুযায়ী রেলওয়ের বন্দবস্ত দেয়া জমির ট্যাক্স নিয়মিত পরিশোধ করতে হয়, জামাত নেতার নামে বন্দবস্তকৃত জমি এক যুগেরও বেশী সময়ে ট্যাক্স পরিশোধ করেনি কেউ। এর দরুন রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ উক্ত চুক্তি বাতিল করে পুনরায় আমাকে লীজ প্রদান করে, এবং অদ্যবধি আমি উক্ত জমির বৈধ লীজ গ্রহীতা এবং নিয়মিত ট্যাক্স প্রদানকারী।
উক্ত জমিটি আবুল কাশেমের বেহাত হয়ে গেলে তিনি আমার বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগ দায়ের করেন এবং সমস্ত তথ্য যাচাই বাছাইয়ের ভিত্তিতে তার অভিযোগ আদালত নাকচ করেন এবং আমাকেই জমিটির বৈধ গ্রহীতা ঘোষণা করেন। আমার পক্ষ থেকে রেলওয়ের নীতিমালা অনুসরণ করেই জমির লিজ নেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে বিষয়টি আদালতে গড়ালে উচ্চ আদালতের রায়ের মাধ্যমে তিনি ন্যায়বিচার পান। এছাড়া রেলওয়ের ভূমি বিভাগ কর্তৃক নির্ধারিত সকল বকেয়া খাজনা পরিশোধ করে বর্তমানে বৈধভাবেই জমি ভোগদখলে রয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, সংবাদ সম্মেলনে তার বিরুদ্ধে রেলওয়ের জমি বিক্রির যে অভিযোগ আনা হয়েছে সেটিও সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, রেলওয়ের অনুমোদিত লিজ নিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তি সেখানে ব্যবসা পরিচালনা করছেন এবং তাদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও রয়েছে।
লিখিত বক্তব্যে সামসুদ্দিন মিয়া ঝুনু অভিযোগ করেন, একটি মহল তার সামাজিক ও রাজনৈতিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে দীর্ঘদিন ধরে অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি এ ধরনের মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।
একই সঙ্গে তিনি প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে এ ধরনের ভিত্তিহীন অভিযোগ ও অপপ্রচারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে উপস্থিত প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকদের উপস্থিতির জন্য ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন সামসুদ্দিন মিয়া ঝুনু।