শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার সার্বিক উন্নয়ন, স্থানীয় রাজনৈতিক পরিস্থিতি, জনগণের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং সমসাময়িক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু নিয়ে খোলামেলা বক্তব্য দিয়েছেন জাজিরা উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি, কাজীর হাটের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, সমাজসেবক, ত্যাগী ও কারানির্যাতিত বিএনপি নেতা সুরুজ মাদবর।
দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক অঙ্গনে সক্রিয় থাকা সুরুজ মাদবর জাজিরা উপজেলার মানুষের সুখ-দুঃখের সঙ্গী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। দলীয় রাজনীতির পাশাপাশি তিনি সামাজিক উন্নয়ন, শিক্ষা, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন।
সম্প্রতি এক আলোচনায় তিনি বলেন, “জাজিরা উপজেলা আমার প্রাণের জায়গা। এই এলাকার মানুষের ভালোবাসা, সমর্থন এবং দোয়ার কারণেই আমি আজকের অবস্থানে এসেছি। তাই এই উপজেলার মানুষের কল্যাণ ও উন্নয়নে আমি আজীবন কাজ করতে চাই।
মানুষের অধিকার আদায়, উন্নয়ন নিশ্চিত করা এবং একটি সুন্দর, সমৃদ্ধ জাজিরা গড়ে তোলাই আমার প্রধান লক্ষ্য।”
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সময়ে জাজিরা উপজেলার উন্নয়ন ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার বিকল্প নেই। দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ঐক্য, শৃঙ্খলা ও পারস্পরিক সহযোগিতা বজায় রেখে জনগণের পাশে থাকতে হবে।
তিনি মনে করেন, জনগণের আস্থা অর্জনের মাধ্যমে রাজনীতিকে আরও জনমুখী করা সম্ভব।
স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে সুরুজ মাদবরকে একজন ত্যাগী, পরীক্ষিত ও সাহসী নেতা হিসেবে মূল্যায়ন করা হয়। রাজনৈতিক সংগ্রামের বিভিন্ন সময়ে তিনি কারানির্যাতনসহ নানা প্রতিকূলতার সম্মুখীন হয়েছেন। তবুও দলের আদর্শ থেকে বিচ্যুত না হয়ে তিনি সবসময় মাঠপর্যায়ে সক্রিয় থেকেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শরীয়তপুর-১ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য ও শরীয়তপুর জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আলহাজ্ব সাঈদ আহমেদ আসলামের আস্থাভাজন হিসেবে তিনি পরিচিত।
একইসঙ্গে শরীয়তপুর-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য, শরীয়তপুর জেলা পরিষদের বর্তমান প্রশাসক এবং শরীয়তপুর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা সরদার একেএম নাসির উদ্দীন কালুর স্নেহভাজন হিসেবেও রাজনৈতিক অঙ্গনে তার পরিচিতি রয়েছে।
স্থানীয় রাজনীতির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সুস্থ রাজনৈতিক পরিবেশ বজায় রাখতে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সহনশীলতা এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে শক্তিশালী করতে হবে। তিনি অভিযোগ করেন, অতীতে রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে অনেক নেতাকর্মী হয়রানি ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তবুও জনগণের অধিকার আদায়ে তারা মাঠে ছিলেন এবং থাকবেন।
তিনি আরও বলেন, বিএনপি সবসময় জনগণের ভোটাধিকার, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং মানুষের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করে যাচ্ছে। দলের তৃণমূল নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জনগণের আস্থা অর্জনের মাধ্যমেই রাজনৈতিক পরিবর্তন সম্ভব।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জাজিরা উপজেলার উন্নয়ন ও রাজনৈতিক অঙ্গনে সুরুজ মাদবরের সক্রিয়তা এবং জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা তাকে ভবিষ্যতের একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্ব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারে।