পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার বাহেরচর বাজারে কয়েকজন যুবকের উদ্যোগে কালিমা খচিত একটি পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে। শুক্রবার (৩ জুলাই) বিকেলে আসরের নামাজের পর বাহেরচর বাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ-সংলগ্ন এলাকায় এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
আয়োজকদের ভাষ্য অনুযায়ী, ইসলামের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ, ঈমানি চেতনা জাগ্রত করা এবং মুসলিমদের মধ্যে ঐক্য ও ভ্রাতৃত্বের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তারা জানান, নিজস্ব অর্থায়ন ও স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে পতাকাটি প্রস্তুত ও উত্তোলনের কাজ সম্পন্ন করা হয়।
কর্মসূচিতে এলাকার মুসল্লি, ব্যবসায়ী, তরুণসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। আয়োজকদের দাবি, উপস্থিত অনেকেই এ উদ্যোগকে স্বাগত জানান এবং ভবিষ্যতেও শান্তিপূর্ণ ও শৃঙ্খলাপূর্ণভাবে এ ধরনের সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনার আহ্বান জানান।
শেষে দেশ, জাতি এবং সমগ্র মুসলিম উম্মাহর শান্তি, ঐক্য ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
উল্লেখ্য, এর আগে গত ১ জুলাই পটুয়াখালীর গলাচিপা-দশমিনা সংযোগ সড়কের রণগোপালদী-উলানিয়া সেতুতেও একদল যুবক আরবি কালিমা খচিত সাদা পতাকা প্রদর্শন করেন। সেই ঘটনার ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সেদিন প্রায় এক ডজন যুবক সেতুর ওপর সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে পতাকা প্রদর্শন করেন। তবে তারা কোনো বক্তব্য দেননি এবং কোনো ব্যানার বা সংগঠনের পরিচয়ও বহন করেননি। ফলে কর্মসূচির উদ্দেশ্য ও আয়োজকদের পরিচয় নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়।
এ পর্যন্ত ওই ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের পরিচয় বা তারা কোনো সংগঠনের প্রতিনিধিত্ব করছিলেন কি না, সে বিষয়ে নির্ভরযোগ্য কোনো তথ্য প্রকাশ পায়নি। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দেওয়া হয়নি।
সচেতন মহলের মতে, জনপরিসরে যেকোনো প্রতীক বা পতাকা প্রদর্শনের ক্ষেত্রে উদ্দেশ্য ও পরিচয় স্পষ্ট থাকলে অপ্রয়োজনীয় বিভ্রান্তি ও গুজব এড়ানো সম্ভব। স্থানীয়দেরও দাবি, এ ধরনের ঘটনায় প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া হলে জনমনে সৃষ্টি হওয়া প্রশ্নের অবসান ঘটবে।