রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলায় একই সড়ক দুর্ঘটনায় একই দিনে বিদায় নিয়েছেন তিন প্রজন্মের পিতা-পুত্র ও নাতি। মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের তিনজন নিহত হওয়ার ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। আকাশ বাতাস যেন ভারি হয়েছে নিহতদের পরিবারের সদস্যেও আহাজারিতে। মোটরসাইকেল ও ট্রাকের ভয়াবহ সংঘর্ষে প্রাণ হারিয়েছেন পল্লী চিকিৎসক নির্মল কুমার সরকার (৭০), তার ছেলে প্রশান্ত কুমার সরকার (৩৫) এবং সাত বছরের নাতি (প্রশান্ত কুমারের ছেলে) বন্ধন কুমার সরকার। নিহতদের বাড়ি গঙ্গাচড়া সদর ইউনিয়নের চেংমারী কুড়িয়ার মোড় এলাকায়। বাবা ও ছেলে উভয়ই পেশায় পল্লী চিকিৎসক ছিলেন। একই পরিবারের তিন সদস্যের এমন আকস্মিক বিদায় ও বংশ প্রদীপ নিভে যাওয়ার ঘটনায় এলাকাজুড়ে নেমে এসেছে শোকের মাতম। স্তব্ধ হয়ে গেছে পরিবার সদস্য ও এলাকাবাসী। প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, গত বৃহ¯পতিবার দুপুরে গঙ্গাচড়া উপজেলার আলমবিদিতর ইউনিয়নে একটি সামাজিক অনুষ্ঠানের অংশগ্রহণের উদ্দেশ্যে মোটরসাইকেলে করে রওনা হন তারা তিনজন। পথিমধ্যে গঙ্গাচড়া উপজেলার বড়বিল মন্থনা বাজার এলাকার মমো জুট মিলের সামনে রাস্তার কোল ঘেঁষে একটি মোটরসাইকেল দাঁড় করিয়ে রাখা ছিল। এসময় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি দ্রæতগামী ঘাতক ট্রাককে সাইড দিতে রাস্তার বাম দিকে যান চালক প্রশান্ত কুমার সরকার। ট্রাকটি তখন বিপরীত দিক থেকে গতি নিয়ে রাস্তার মাঝামাঝি আসছিল। কিন্তু রাস্তার উপর শুকাতে দেওয়া খড়ের ওপর চাকা উঠে গেলে মোটরসাইকেলটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে ট্রাকের সঙ্গে ধাক্কা লাগলে তিনজনই ছিটকে পড়ে যায়। এঘটনায় ঘটনাস্থলেই মোটরসাইকেল চালক প্রশান্ত কুমার সরকার মারা যান। পরে এলাকাবাসী মুমূর্ষু অবস্থায় নির্মল কুমার সরকার এবং শিশু বন্ধনকে উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে নির্মল কুমার সরকার শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় শিশু বন্ধনকে হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি করা হয়। সেখানে রাত সাড়ে ১১টার দিকে শিশুটিও মারা যায়। এদিকে বৃহস্পতিবার রাতে শ্মশানে বাবা প্রশান্ত কুমার সরকার ও ঠাকুরদাদা নির্মল কুমার সরকারের চিতা জ্বলছিল, তখনই হাসপাতাল থেকে খবর আসে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছোট্ট বন্ধনও আর বেঁচে নেই। মৃত্যুর খবর শ্মশানে পৌঁছামাত্রই উপস্থিত শত শত মানুষের চোখ অশ্রæসিক্ত হয়ে ওঠে, চারদিকের আকাশ-বাতাস ভারি হয়ে ওঠে এক বোবা কান্নায়। পারিবারিক সূত্র জানা যায়, বন্ধনের বয়স মাত্র ৭ বছর হওয়ায় সনাতন ধর্মীয় শাস্ত্রীয় বিধান অনুযায়ী তাকে চিতায় না পুড়িয়ে, রাতেই নিয়ম মেনে সমাধিস্থ (মাটি চাপা) করার মাধ্যমে সৎকার স¤পন্ন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রতিবেশী পিকে সরকার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, এমনিতেই আমরা পাথর হয়ে গেছি। শ্মশানে যখন জেঠা আর দাদার দাহ হচ্ছিল, সারা এলাকা নিঃশব্দ হয়ে গিয়েছিল। এরই মধ্যে যখন বন্ধনের মৃত্যুরখবর এলো... আর বলতে পারছি না। গঙ্গাচড়া সদর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মাহফুজার রহমান দুলু বলেন, এ রকম একটি মর্মান্তিক মৃত্যুর খবর আমাদের এলাকাকে স্তব্ধ করে দিয়েছে। তিন প্রজন্মের একই দিনে এভাবে বিদায় কেউই মেনে নিতে পারছে না। পল্লী চিকিৎসায় এলাকায় ওনাদের অনেক অবদান ছিল। গঙ্গাচড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুস ছবুর বলেন, ঘাতক ট্রাকটি আটক করা হয়েছে।