চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে জমি দখলের চেষ্টা, জাল কাগজপত্র প্রস্তুত, প্রতারণা, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে এক সাংবাদিকসহ আটজনের বিরুদ্ধে ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), চট্টগ্রাম জেলা ইউনিটকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
বুধবার (১ জুলাই) বাঁশখালী সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বৈলছড়ি ইউনিয়নের চেচুরিয়া গ্রামের মৃত এজাহার মিয়ার মেয়ে ছলিমা বেগমের পক্ষে আমমোক্তার সাঈদ নুর সিদ্দিক মামলাটি দায়ের করেন। মামলাটি গ্রহণ করে বিচারক আবদুল হামিদ তদন্তের দায়িত্ব পিবিআইকে অর্পণ করেন।
মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে গণ্ডামারা ইউনিয়নের পশ্চিম বড়ঘোনা গ্রামের শফকত হোসাইন চাটগামী (৪৫)-কে, যিনি দৈনিক খবরের কাগজ ও দৈনিক সাঙ্গু পত্রিকার বাঁশখালী প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত। এছাড়া আরও সাতজনকে আসামি করা হয়েছে। তারা হলেন— নজরুল ইসলাম (৩৫), মোহাম্মদ ইসলাম (৪২), ফরিদা খানম (৫০), ছমিদুল হক (৩২), জাহানারা বেগম (৫০), নন্না মিয়া (৪৮) ও তৈয়ব মিয়া (৪৮)।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, বাদী ও তার পরিবার দীর্ঘদিন ধরে পৈতৃক ও ওয়ারিশসূত্রে প্রাপ্ত জমি ভোগদখলে থাকলেও আসামিরা জাল বিএস খতিয়ান ও অন্যান্য কাগজপত্র তৈরি করে ওই জমির মালিকানা দাবি করছেন। পাশাপাশি বিভিন্ন সময়ে জমি দখলের চেষ্টা, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং প্রকৃত মালিকদের উচ্ছেদের অপচেষ্টা চালানো হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়।
এজাহারে আরও বলা হয়েছে, প্রধান আসামি শফকত হোসাইন চাটগামী তার প্রভাব খাটিয়ে সংঘবদ্ধভাবে জমি দখলের চেষ্টা করেছেন। বাধা দিলে লাঠিসোঁটা ও লোহার রড নিয়ে হামলার ভয় দেখানো এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও আনা হয়েছে। বাদীপক্ষের দাবি, আসামিরা আদালতে বিভ্রান্তিকর তথ্য উপস্থাপনের মাধ্যমে মিথ্যা মালিকানা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছেন, ফলে পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে।
বাদীপক্ষের আইনজীবী সাদমান মেহজাবিন জানান, দীর্ঘ শুনানি শেষে আদালত অভিযোগগুলো আমলে নিয়ে পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
তবে মামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রধান আসামি সাংবাদিক শফকত হোসাইন চাটগামী। তিনি বলেন, "সাবেক এমপি মোস্তাফিজের আমল থেকে আমাদের বিরুদ্ধে যেসব মামলা-মোকদ্দমা চলছিল, এটি তারই ধারাবাহিকতা। এটি একটি ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা। বাদীপক্ষ আমার ক্রয়কৃত মসজিদের জায়গার দখল বুঝিয়ে না দিয়ে উল্টো আমাকে এক নম্বর আসামি করেছে। গ্রামের অনেক নিরীহ মানুষকেও এ মামলায় জড়ানো হয়েছে। অতীতেও উচ্চ আদালতসহ বিভিন্ন পর্যায়ে আমরা আইনি লড়াইয়ে সফল হয়েছি। এবারও সত্য প্রতিষ্ঠিত হবে বলে আমরা আশাবাদী।"
মামলায় ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন এবং দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্ত শেষে পিবিআইয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে।