ফরিদপুরের ভাঙ্গায় পূর্ব শত্রুতার জেরে দুই গ্রামবাসীর মধ্যে এক ভয়াবহ ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে সুমন শেখ নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে ইট-পাটকেলের আঘাতে পুলিশ সদস্যসহ আহত হয়েছেন অন্তত ২০ জন। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত ভাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন হাইওয়ে এক্সপ্রেসওয়ে এলাকায় এই তাণ্ডব চলে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে পুলিশ রাতেই ১৭ জনকে আটক করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার কাপুড়িয়া সদরদী ও হাসামদিয়া গ্রামের যুবকদের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। এরই জেরে মাস চারেক আগের একটি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্র ও টর্চলাইট নিয়ে মহাসড়কে মুখোমুখি সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় পুরো এক্সপ্রেসওয়ে এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।
রাত সাড়ে ৯টার দিকে সুমন শেখ নামে এক যুবক গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকা আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। নিহতের স্বজন ও বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী মহাসড়কের ওপর আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। এতে এক্সপ্রেসওয়েতে প্রায় তিন ঘণ্টা যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ থাকে এবং সাধারণ যাত্রীরা চরম ভোগান্তির শিকার হন।
খবর পেয়ে ভাঙ্গা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করলে উত্তেজিত গ্রামবাসী পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন। পরবর্তীতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে রাত ১০টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয় এবং মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়।
ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, "সহিংসতা বন্ধে পুলিশ কঠোর অবস্থান নিয়েছে। রাতেই অভিযান চালিয়ে ১৭ জনকে আটক করা হয়েছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। বর্তমানে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।"