গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের বৃহত্তম অঞ্চল টঙ্গীর নাগরিক সেবা আরও গতিশীল ও জনমুখী করতে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নিয়েছেন গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক শওকত হোসেন সরকার। নগরবাসীর প্রত্যাশিত সেবা নিশ্চিত করতে তিনি সপ্তাহে একদিন নিয়মিত টঙ্গী আঞ্চলিক কার্যালয়ে অফিস করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার সকালে তিনি সিটি কর্পোরেশনের অঞ্চল-১ কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রমের উদ্বোধন ও পরিদর্শন করেন।
সকাল থেকেই প্রশাসকের উপস্থিতিতে টঙ্গী অঞ্চলে উন্নয়ন কার্যক্রমে নতুন গতি সঞ্চার হয়। প্রথমেই তিনি টঙ্গীর বিভিন্ন ওয়ার্ডে একযোগে ড্রেন পরিষ্কার কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। দীর্ঘদিন ধরে অপরিষ্কার ও বর্জ্যে ভরাট হয়ে থাকা ড্রেনগুলো পরিষ্কারের মাধ্যমে জলাবদ্ধতা নিরসন, পরিবেশের উন্নয়ন এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার লক্ষ্যে এই বিশেষ কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে।
পরে সকাল ১১টায় তিনি সাতাইশ খড়তৈল এলাকার মনসুর আলী স্কুল সংলগ্ন সড়কের উন্নয়ন কাজের শুভ উদ্বোধন করেন। স্থানীয় বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির সংস্কারের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। এলাকাবাসীর অভিযোগ ছিল, সড়কটি বেহাল অবস্থার কারণে শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী ও সাধারণ মানুষকে প্রতিদিন দুর্ভোগ পোহাতে হতো।
এরপর দুপুর ১২টায় টঙ্গী পশ্চিম থানাধীন দেওড়া মোহাম্মদ আলী স্কুল সংলগ্ন আরেকটি সড়কের উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন করেন প্রশাসক। স্থানীয়দের মতে, বর্ষা মৌসুমে কাদাপানি ও জলাবদ্ধতার কারণে এই সড়কে চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ত। নতুন করে সড়ক উন্নয়ন কাজ শুরু হওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
দুপুর ১টায় তিনি গাজীপুরা চানকি রোড সংলগ্ন আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক পরিদর্শন ও উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন করেন। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দারা প্রশাসকের কাছে এলাকার বিভিন্ন নাগরিক সমস্যার কথা তুলে ধরেন। প্রশাসক তাদের অভিযোগ ও পরামর্শ গুরুত্বের সঙ্গে শুনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে টঙ্গীর বিভিন্ন এলাকায় রাস্তা নির্মাণ হলেও ড্রেনেজ ব্যবস্থার যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ হয়নি। ফলে ড্রেনগুলো বর্জ্যে ভরে গিয়ে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি করত। রাস্তায় পানি জমে থাকায় সাধারণ মানুষের চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি মশার উপদ্রব বৃদ্ধি পেত। এতে ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া ও বিভিন্ন পানিবাহিত রোগের ঝুঁকিও বাড়ছিল।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, অতীতে একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সমস্যা সমাধানের দাবি জানানো হলেও কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি। তবে বর্তমান প্রশাসকের উদ্যোগে প্রথমবারের মতো পুরো অঞ্চলজুড়ে সমন্বিতভাবে ড্রেন পরিষ্কার কার্যক্রম শুরু হওয়ায় তারা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
নাগরিকরা মনে করছেন, প্রশাসকের নিয়মিত আঞ্চলিক কার্যালয়ে উপস্থিতি এবং সরেজমিনে উন্নয়ন কাজ তদারকির ফলে টঙ্গীর দীর্ঘদিনের অবকাঠামোগত সমস্যা দ্রুত সমাধানের পথ তৈরি হবে। একই সঙ্গে সড়ক উন্নয়ন ও ড্রেন পরিষ্কার কার্যক্রম বাস্তবায়িত হলে জলাবদ্ধতা কমবে, পরিবেশের উন্নতি হবে এবং নগরবাসী আরও উন্নত নাগরিক সেবা পাবে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, প্রশাসকের এই জনকল্যাণমুখী উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে টঙ্গী অঞ্চল আধুনিক, পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য নগর হিসেবে গড়ে উঠবে এবং নগরবাসীর দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটবে।