খুলনার পাইকগাছায় দীর্ঘদিন সংস্কার অভাবে জনগুরুত্বপূর্ণ সড়ক জরাজীর্ণ! চরম ভোগান্তিতে এলাকাবাসী। উপজেলার লস্কর ইউনিয়নে জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কের প্রায় দেড় কিলোমিটার অংশ জরাজীর্ণ ও বেহাল অবস্থায় পরিণত হয়ে স্বাভাবিক চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। চলাচলে প্রতিদিন হাজারো মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার লস্কর ইউনিয়নের বাইনতলা খেয়াঘাট থেকে খড়িয়া অভিমুখে পাইকগাছা জিসি-বাইনতলা বাজার-বগুলারচক-হুলাবাড়ী জিসি সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত, ভাঙাচোরা, জরাজীর্ণ এবং উঁচুনিচু অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও কোথাও রাস্তার মাটি সরে গিয়ে চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কের বিভিন্ন স্থানে পানি ও কাঁদা জমে যানবাহন চলাচল প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। এতে পথচারী, শিক্ষার্থী ও যানবাহন চালকদের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। ইউনিয়নের ৫ ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্য দিয়ে বিস্তৃত এই সড়কটি স্থানীয় মানুষের যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম। প্রতিদিন স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, কৃষক ও মৎস্যজীবীসহ হাজারো মানুষ এই সড়ক দিয়ে যাতায়াত করেন। এছাড়াও কৃষিপণ্য, রপ্তানিযোগ্য চিংড়ি ও অন্যান্য পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রেও সড়কটির গুরুত্ব অপরিসীম।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘ প্রায় দুইযুগ ধরে সড়কটির কোনো সংস্কার হয়নি, ফলে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটেই চলেছে। বিশেষ করে রোগীর পরিবহন, শিক্ষার্থীদের যাতায়াত এবং জরুরি প্রয়োজনে চলাচল করতে গিয়ে মানুষকে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে প্রতিনিয়ত।
সড়কটির বেহাল অবস্থার বিষয়ে একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলেও এখনও পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। যার ফলে জনদুর্ভোগ দিন দিন বেড়েই চলেছে বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ।
এ বিষয়ে লস্কর ইউপি-র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোঃ জাহাঙ্গীর আলম সানা বলেন, সড়কটি সংস্কারের জন্য আমরা বারবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। এলজিইডি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চলতি বছর সড়কটি সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে। আমরা দ্রুত কাজ শুরুর প্রত্যাশা করছি।
উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ শাফিন শোয়েব জানান, খুলনা বিভাগীয় গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ের ডিপিপিতে সড়কটি অন্তর্ভুক্ত আছে। তালিকায় এটি ২ নম্বর সিরিয়ালে রয়েছে। আশা করছি দ্রুত কাজটি শুরু হবে। এদিকে দীর্ঘদিনের ভোগান্তি থেকে মুক্তি পেতে এলাকাবাসী দ্রুত সড়কটি সংস্কার কাজ শুরু করে নিরাপদ, টেকসই ও আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।