গাজীপুর মহানগরীর পূবাইল থানার কলেজ গেইট এলাকায় অবস্থিত ‘ইকো গ্রীন ওয়েল কোম্পানি লিমিটেড’ নামের একটি অবৈধ পোড়া মবিল ও টায়ার গলিয়ে কেমিক্যাল উৎপাদনকারী কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (২০ জুন) দুপুরে এ আগুনের সূত্রপাত হয়। তবে সৌভাগ্যবশত এ ঘটনায় কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।
খবর পেয়ে টঙ্গী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের তিনটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ফায়ার সার্ভিসের তাৎক্ষণিক পদক্ষেপে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হলেও আগুন লাগার সুনির্দিষ্ট কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শনিবার দুপুরে হঠাৎ করেই কারখানার ভেতর থেকে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলতে দেখা যায়। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন চারদিকে ছড়িয়ে পড়লে কারখানায় কর্মরত শ্রমিকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রাণ বাঁচাতে শ্রমিকরা দ্রুত কারখানা থেকে বেরিয়ে আসেন। আগুনের কালো ধোঁয়া আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যেও উদ্বেগ ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, আবাসিক এলাকায় গড়ে ওঠা এই ঝুঁকিপূর্ণ ও অবৈধ কারখানাটিতে এর আগেও ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটেছে। ২০১৬ সালের ২৪ জানুয়ারি একই কারখানায় বয়লার বিস্ফোরণের ঘটনায় নারীসহ ৬ জন শ্রমিক নিহত হন এবং আহত হন আরও অন্তত ১০ জন। সেই মর্মান্তিক ঘটনার এক দশক পর আবারও একই প্রতিষ্ঠানে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে নিরাপত্তাহীনতা ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় বছরের পর বছর ধরে এমন ঝুঁকিপূর্ণ কারখানা কীভাবে পরিচালিত হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা অবিলম্বে কারখানাটি সিলগালা করে মালিকপক্ষের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে টঙ্গী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মো. শাহিন আলম জানান, “দুপুর আনুমানিক আড়াইটার দিকে আগুন লাগার খবর পেয়ে ১০ মিনিটের মধ্যে আমাদের তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায়। প্রায় ৩০ মিনিটের চেষ্টায় আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।”
তিনি আরও জানান, “এটি একটি অবৈধ ও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। এখানে পরিত্যক্ত টায়ার পুড়িয়ে অপরিশোধিত জ্বালানি উৎপাদন করে বাজারজাত করা হতো। ঘটনাস্থলে প্রতিষ্ঠানের কোনো দায়িত্বশীল ব্যক্তিকে পাওয়া যায়নি। তাদের সঙ্গে যোগাযোগ সম্ভব না হওয়ায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানা যায়নি। তবে এ ঘটনায় কোনো প্রাণহানি ঘটেনি।”
স্থানীয়দের দাবি, অতীতের ভয়াবহ দুর্ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার যেন প্রশাসন কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে, যাতে ভবিষ্যতে এমন ঝুঁকিপূর্ণ কারখানার কারণে আর কোনো প্রাণহানি বা বড় ধরনের দুর্ঘটনা না ঘটে।