পাকিস্তান কেন্দ্রীয় সরকারের সাবেক অর্থ,স্বাস্থ্য ও শিক্ষা মন্ত্রী প্রয়াত লুৎফর রহমান খানের তৃতীয় পুত্র ড. জগলুর রহমান খানের প্রথম কুলখানি তার গুলশানস্হ নিজ বাসভবনে অনুষ্ঠিত হয়।
ড. খান ১৯৪৪ সালের ০৬ ডিসেম্বর টাঙ্গাইল জেলার নাগরপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ধুবড়িয়া গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
জগলুর রহমান খান ছাত্রজীবন থেকেই মেধার সাক্ষর রেখে গেছেন।
তিনি ১৯৬৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতি বিভাগে অনার্স সহ এম.এ সম্পন্ন করেন এবং প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হয়ে কৃতিত্বের সাক্ষর রাখেন।পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই রাস্ট্রবিজ্ঞানেও এমএ ডিগ্রি লাভ করেন।
তিনি যুক্তরাষ্ট্র থেকে দারিদ্র্য বিমোচনের উপর পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন।
এছাড়াও তিনি এলএল.বি ডিগ্রি লাভ করে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টে আইন পেশায় সুনামের সহিত পেশাগত দ্বায়িত্ব পালন করেন।
১৯৬১-১৯৬২ সালে সলিমুল্লাহ মুসলিম হল সংসদের সাহিত্য সম্পাদক ছিলেন।
ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজের প্রথম ব্যাচের ছাত্র হওয়াতে ক্যাডেট কলেজগুলোতে ছিল তার অনবদ্য ভূমিকা,সে কারনেই আরও গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেয়ার সুবিধার্থে বাংলাদেশ ক্যাডেট কলেজ ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেন এবং প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে দ্বায়িত্ব পালন করেন।
ব্যাক্তিজীবনে তিনি অনেক গঠনমূলক একজন মানুষ এবং সমাজসেবায়ও ছিলেন অনন্য শিখরে।
এরই ধারাবাহিকতায় প্রতিষ্ঠা করেন এমবন গ্রুপ।
একাধারে গুলশান ক্লাব সহ উত্তরা ও বারিধারা কসমোপলিটন ক্লাবের আজীবন সদস্য এবং গুলশান সোসাইটিরও সিনিয়র সদস্য।
তিনি ঢাকা ক্লাবের আজীবন সদস্য ছিলেন।
সামাজিক কাজকর্মের পাশাপাশি খেলাধুলার প্রতি ছিল তার বিশেষ আকর্ষণ।
১৯৭৬-৭৮ সাল পর্যন্ত আবাহনী ক্লাবের সহ-সভাপতির দ্বায়িত্ব পালন করেন।পরবর্তীতে ধানমন্ডি ক্লাবেরও সহ-সভাপতির দ্বায়িত্ব পালন করেন।
তিনি ১৯৮৮-৮৯ সালে ওল্ড ফউজিয়ান অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান নিযুক্ত হন।
আইন বিষয়ে ছিল তার অসামান্য জ্ঞান,তিনি প্রতিনিয়ত আইন চর্চা করতেন এবং এদেশে যেন আইনের সঠিক প্রয়োগ হয় সে বিষয়ে তিনি উপদেশমূলক কথা তুলে ধরতেন।তিনি বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সদস্য ছিলেন এবং সার্বিক বিবেচনায় আইন শাস্ত্রে ছিল তার অধিক পাণ্ডিত্য।
ধর্মীয় বিষয়ে ছিল তার অসামান্য অবদান।
বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে তার সহযোগিতা আছে।
গুলশান কেন্দ্রীয় মসজিদের আজীবন সদস্য ছিলেন তিনি।
মেঘনা ইনসুরেন্সের কোম্পানি লিমিটেডের সভাপতি হিসেবে দীর্ঘদিন দ্বায়িত্ব পালন করে মেঘনা ইনসুরেন্স কে উচ্চতর শিখরে পৌঁছে দেন।
ব্যক্তিজীবনের চলাফেরায় সকলের সাথেই তিনি অত্যাধিক বন্ধুসূলভ আচরণ করতেন,শিশুদের প্রতি ছিল তার অগাধ ভালোবাসা।
উনার পিতা মরহুম লুৎফর রহমান খান একাধারে এমসিএ,এমপি,এমএনএ এবং এমএলএ ছিলেন।
মন্ত্রী পুত্র হওয়া স্বত্তেও তার ছিলনা কোন অহংকার,স্পর্শ করতে পারতোনা কোন দাম্ভিকতা।সহজ সরল জীবন যাপনের মধ্যেই কেটেছে সারাটা জীবন।
জিয়া পরিবারের সাথে তাদের পরিবারের আন্তরিক সুসম্পর্ক বিদ্যমান থাকায় দুই পরিবারের মধ্যে ছিল অবাধ যাতায়াত,যা এখনও বিদ্যমান রয়েছে।
তার দুই পুত্র এবং এক কণ্যা সন্তান রয়েছে।
সকলেই উচ্চশিক্ষিত এবং সমাজে তাদের বিশেষ অবদান উল্লেখযোগ্য।
একমাত্র কণ্যা রিদমা খান আইন পেশায় সুনামের সহিত কাজ করে যাচ্ছেন এবং পুত্র জিসান খান বিশিষ্ট ব্যবসায়ী এবং সমাজসেবক।
জ্যেষ্ঠ পুত্র ব্যারিষ্টার সাদাত খান প্রখ্যাত আইনজীবী।
যিনি যুবদল,লন্ডনের আইন সম্পাদক ছিলেন এবং ২০০৮ এবং ২০১৪ সালের সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল-৬ থেকে মনোনয়ন প্রার্থী হয়ে নাগরপুর-দেলদুয়ারের আনাচে কানাচে পথসভা ও পদচারণা করে সাধারণ জনগণের কাছে জায়গা করে নিয়েছিলেন।
ড. জগলুর রহমান খানের সহধর্মিণী নিশাত রহমান খান উচ্চশিক্ষিত একজন মানুষ।তিনি নারীদের সাবলম্বী তথা বিভিন্ন কাজে বিশেষ অবদান রেখে যাচ্ছেন।
মরহুমের কুলখানিতে দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত থেকে দোয়ায় অংশ নেন এবং মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।