লক্ষ্মীপুরের রামগতি ও কমলনগর উপজেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ঐতিহ্যবাহী ভুলুয়া নদী এবং এর সঙ্গে সংযুক্ত শত শত শাখা খাল এখন অবৈধ দখলদার ও প্রভাবশালীদের কবলে। নদী ও খালের বুক জুড়ে বসানো হয়েছে মাছ শিকারের অবৈধ জাল ও খুঁটি। ফলে পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক পথ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে পড়েছে। এতে করে সামান্য বৃষ্টিতেই বিস্তীর্ণ এলাকায় দেখা দিচ্ছে তীব্র জলাবদ্ধতা। স্থানীয় বাসিন্দাদের আশঙ্কা, দ্রুত এই নদী ও খালগুলো দখলমুক্ত এবং খনন করা না হলে, বিগত বছরগুলোর মতো এবারও বর্ষা মৌসুমে পানিতে ডুবে থাকতে হবে হাজার হাজার পরিবারকে।
থমকে গেছে পানি নিষ্কাশন, দুর্ভোগে লাখো মানুষ
স্থানীয় এলাকাবাসীর অভিযোগ, একসময়ের প্রমত্তা ভুলুয়া নদী ও এর আশপাশের খালগুলো এখন মৃতপ্রায়। প্রভাবশালীরা বিভিন্ন স্থানে বাঁধ দিয়ে, জাল পেতে এবং খুঁটি গেঁড়ে নদীটির স্বাভাবিক গতিপথ অবরুদ্ধ করে রেখেছে। মেঘনা নদীর সাথে এই নদী ও খালগুলোর সংযোগ থাকলেও, প্রতিবন্ধকতার কারণে ঠিকমতো পানি মেঘনা নদীতে নিষ্কাশন হতে পারছে না।
ভুক্তভোগী বাসিন্দারা জানান, প্রতি বছর বর্ষা এলেই পুরো এলাকা পানির নিচে তলিয়ে যায়। নষ্ট হয় ফসল, ভেসে যায় মাছের ঘের এবং পানিবন্দী হয়ে পড়ে হাজার হাজার মানুষ। তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "দ্রুত এই নদী ও খালগুলো দখলমুক্ত করে খনন করা জরুরি। তা না হলে গত বছরের মতো এবারও আমাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হবে।"
প্রশাসনের বক্তব্য ও আশ্বাস
এ বিষয়ে গণমাধ্যমকর্মীরা কমলনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাহাদুজ্জামান-এর সাথে যোগাযোগ করলে তিনি নদী ও খালের বর্তমান পরিস্থিতির সত্যতা স্বীকার করেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাহাদুজ্জামান বলেন,
"এই ভুলুয়া নদী ও খালটি খননের ব্যাপারে আমরা ইতিমধ্যে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানিয়েছি। এ বিষয়ে খোদ পানিসম্পদ মন্ত্রী মহোদয়ও অবগত আছেন। তবে স্থায়ী খনন প্রক্রিয়া শুরু হতে কিছুটা সময় লাগলেও, আসন্ন বর্ষায় যাতে মানুষ সংকটে না পড়ে সেজন্য আমরা তৎপর রয়েছি। প্রতি বছরের মতো এবারও আমরা সাময়িকভাবে পানি নিষ্কাশনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করে দেব এবং নদী-খালে থাকা অবৈধ জাল ও খুঁটি অপসারণ ও সংস্কারের দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করব।"
এলাকাবাসীর দাবি: স্থায়ী সমাধান
এদিকে সাময়িক আশ্বাসে আর আশ্বস্ত হতে পারছেন না স্থানীয় জনপদ। রামগতি ও কমলনগরের ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষের দাবি, প্রশাসন যেন শুধু আশ্বাসেই সীমাবদ্ধ না থেকে অনতিবিলম্বে মাঠ পর্যায়ে অভিযান চালিয়ে সব ধরনের অবৈধ জাল, খুঁটি ও বাঁধ অপসারণ করে। একই সাথে নদী ও খালগুলো স্থায়ীভাবে খনন করে মেঘনা নদীর সাথে পানিপ্রবাহের পথ সচল করার জন্য সরকারের নিকট জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।