সপ্তাহ ধরে রংপুরের জনপ্রিয় ও সুস্বাদু হাঁড়িভাঙা আম বাজারে পাওয়া গেলেও সোমবার আনুষ্ঠানিক বাজারজাতকরণ শুরু হয়েছে। তীব্র তাপদাহের কারণে এবার নির্ধারিত সময়ের পাঁচ দিন আগেই আম বিক্রির অনুমতি দেওয়া হয়েছে। আজ ১৫ জুন সোমবার মিঠাপুকুর উপজেলার পদাগঞ্জে আনুষ্ঠানিকভাবে হাঁড়িভাঙা আমের বাজারজাতকরণের উদ্বোধন করেন রংপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিন। এসময় কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। একসময় রংপুর অঞ্চলে আম বিক্রির প্রচলিত হিসাব ছিল ‘গন্ডা’ ও ‘হালি’ ভিত্তিক। দুই দশক আগেও ৩৬ গন্ডা বা ৩৬ হালিতে একশ আম পাইকারি বিক্রি হতো। পরে সেই আম শহরে ৩২ গন্ডায় একশ হিসেবে বিক্রি করা হতো। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনে সেই ঐতিহ্য এখন প্রায় হারিয়ে গেছে। বর্তমান প্রজন্মের অনেকেই গন্ডা হিসেবে আম বিক্রির প্রচলন সম্পর্কে জানেন না। এখন আম বিক্রি হয় কেজি দরে। আম চাষিরা বলেন, একসময় ৮ হালিকে এক পোয়া, ১৬ হালিকে দুই পোয়া এবং ২৪ হালিকে তিন পোয়া বলা হতো। বৈশাখ, জ্যৈষ্ঠ ও আষাঢ় মাসজুড়ে বিভিন্ন জাতের আমে বাজার ভরে থাকত। আধুনিকতার ছোঁয়া ও আমের মূল্য বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে গন্ডা ও হালির হিসাব হারিয়ে গেছে। আলী হোসেন মোল্লা নামে এক ব্যক্তি বলেন, ১৫ থেকে ২০ বছর আগেও ৩৬ গন্ডায় একশ আম ২৫ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হতো। ফজলি, কেরোয়া, এছাহাক তেলি, ছাইবুদ্দিন, আশ্বিনী, সাদা নেংড়া, কালা নেংড়া, কলিকাতা নেংড়া, মিশ্রীভোগ, গোপালভোগ, আম্রপালি, সাদা রচি, চোচা ও আঁটিসহ বিভিন্ন জাতের আম গন্ডা হিসেবে কেনাবেচা হতো। বর্তমানে এসব জাতের আমের চাষ কমে গেছে এবং বাজার দখল করেছে হাঁড়িভাঙা আম। তিনি বলেন, হাঁড়িভাঙা আমের ওজন সাধারণত ৩০০ থেকে ৪০০ গ্রাম হয়ে থাকে। মিষ্টি ও সুস্বাদু হওয়ায় দেশজুড়ে হাঁড়িভাঙা আমের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। তবে অতীতের ঐতিহ্য ধরে রাখতে কিছু আম এখনো গন্ডা বা হালি হিসেবে বিক্রির ব্যবস্থা থাকা উচিত। কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, রংপুর জেলায় এবার প্রায় সাড়ে তিন হাজার হেক্টর জমিতে আম চাষ হয়েছে। এর মধ্যে হাঁড়িভাঙা আমের চাষ হয়েছে এক হাজার ৯২০ হেক্টরের বেশি জমিতে। প্রতি হেক্টরে গড়ে ১০ থেকে ১২ মেট্রিক টন ফলন পাওয়া যায়। এবার হাঁড়িভাঙা আমের উৎপাদন ২০ হাজার মেট্রিক টনের বেশি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। যার বাজারমূল্য ৩০০ কোটি টাকারও বেশি। মৌসুমের শুরুতে হাঁড়িভাঙা আম প্রতি কেজি ৪০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হলেও মৌসুমের শেষ দিকে দাম ১৫০ টাকা পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। বদরগঞ্জ উপজেলার শ্যামপুর এলাকার আম চাষি সামছুজ্জামান বলেন, এবার আমের ফলন খুবই ভালো হয়েছে। কৃষকরা ভালো দাম পাবেন বলে আশা করা যাচ্ছে। রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক সিরাজুল ইসলাম বলেন, এবার হাঁড়িভাঙা আমের ‘অন ইয়ার’। ফলে উৎপাদনও বেশি হয়েছে। বাজারে ভালো চাহিদা থাকায় কৃষকরা লাভবান হবে বলে আশা করা হচ্ছে।