বগুড়ার শেরপুরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভিত্তিহীন সাম্প্রদায়িক মন্তব্য করে সামাজিক সম্প্রীতি বিনষ্টের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে অবসরপ্রাপ্ত একজন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় আজ রোববার (১৪ জুন) দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) নিকট আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানিয়ে স্মারকলিপি দিয়েছেন, বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোটের শেরপুর উপজেলা কমিটির সভাপতি বিদ্যুৎ কুমার সরকার ও বাংলাদেশ পূজা উদযাপন ফ্রন্টের শেরপুর উপজেলা কমিটির সভাপতি জয় কিশোর মুন্সী।
অবসরপ্রাপ্ত এই পুলিশ সদস্য হলেন আব্দুল মতিন। তিনি শেরপুর থানার পুলিশ কনস্টেবল হিসেবে কর্মরত ছিলেন। কয়েক বছর আগে তিনি অবসরে যান। তিনি এখন শেরপুর পৌরশহরের উলিপুর এলাকায় স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গতকাল শনিবার (১৩ জুন) দুপুর ২ টা ৩৪ মিনিটে শেরপুরের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম শিরু, তাঁর (sheikh shiru) নামে ফেসবুক আইডি থেকে একটি ভিডিও শেয়ার করেন। ওই ভিডিওতে বগুড়া জেলার শেরপুর পৌরশহরে ঢাকা- বগুড়া মহাসড়কে একটি ফ্লাইওভার নির্মাণের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়।
sheikh shiru নামে আইডির শেয়ার করা পোস্টের নিচে md motin নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে উস্কানিমূলক মন্তব্য করা হয়। মন্তব্যটি ছিল, "শেরপুরের হিন্দুরা মিছিল করেছিল ফ্লাইওভার চায়না এখন বোঝেন কত কষ্ট হচ্ছে শেরপুরবাসীর দ্রুত খাইওভার দরকার"।
ইউএনও'র কাছে দেওয়া এই স্মারকলিপি সূত্রে জানা যায়, আব্দুল মতিন ( md motin) এর নামে ফেসবুক প্রোফাইলের ছবিতে বাংলাদেশ পুলিশের পোশাক পরিহিত ছবি রয়েছে। কয়েক বছর আগে তিনি অবসরে যান।
ওই দুই সংগঠন সূত্রে জানা যায়, শেরপুর উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে ধর্ম- বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষ অত্যন্ত চমৎকার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রেখে সহাবস্থান করছেন এবং পরস্পরের মধ্যে গভীর ভাতৃত্বের বন্ধন রয়েছে।
কিন্তু এই শান্ত ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে একজন দায়িত্বশীল প্রাক্তন সরকারি কর্মচারীর আইডি থেকে এ ধরনের সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, মিথ্যা ও চরম সম্প্রদায়িক মন্তব্য কেবল দুঃখজনক নয় বরং স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মাঝে গভীর উদ্বিগ্নতা ও নিরাপত্তাহীনতার সৃষ্টি করেছে।
এ ধরনের উস্কানি মূলক বক্তব্য এলাকার শান্ত পরিবেশকে অশান্ত করা এবং ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়ানোর একটি অপচেষ্টা মাত্র। শেরপুরের দীর্ঘদিনের গৌরবময় সামাজিক ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অক্ষুণ্য রাখা স্বার্থে এবং ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত ও বিভ্রান্তি ছড়ানোর অপরাধে উক্ত md motin আইডি ব্যবহারকারীকে দ্রুত আইনে আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে আবেদন জানানো হয়।
এ নিয়ে অবসরপ্রাপ্ত আব্দুল মতিনের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি তাঁর ফেসবুক থেকে উক্ত ভিডিওতে শেরপুরের হিন্দুরা মিছিল করেছিল ফ্লাইওভার চায়না এখন বোঝেন কত কষ্ট হচ্ছে শেরপুরবাসীর দ্রুত খাইওভার দরকার" মন্তব্যটি ভুল হয়েছে বলে তিনি জানান। পরে তিনি এই লেখাটি গতকাল দুপুরের পর তুলে নিয়েছেন।
প্রসঙ্গ নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইদুজ্জামান হিমু বলেন, আব্দুল মতিনের ওই কমেন্টটি অপরাধমূলক কাজ। কমেন্টটি তিনি দেখেছেন বলেও জানান। তিনি বলেন, বিষয়টি শেরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) জানানো হয়েছে। এছাড়া ওই দুই সংগঠন থেকে দেওয়া স্মারকলিপিটি জেলা প্রশাসককে জানানো হবে।