টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার ঝড়কা কিসমত কাত্রা (ভাঙ্গারপাড়) এলাকায় এক শারীরিক প্রতিবন্ধী নারীর ওপর হামলা, মারধর, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী মোছাঃ শিরিনা আক্তার (৩৫) এ ঘটনায় ঘাটাইল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করার পাশাপাশি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়েও অভিযোগপত্র জমা দিয়েছেন। অভিযোগে স্থানীয় মোঃ নুরুল ইসলাম (৫৫), মোঃ ফয়সাল (২৮), মোছাঃ ফিরোজা বেগম (৫০) ও মোছাঃ নুরজাহান বেগম (৩২)-কে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, শিরিনা আক্তার একজন অসহায় শারীরিক প্রতিবন্ধী নারী এবং তার স্বামী মোঃ আব্দুস সামাদ পৌরসভার ময়লার গাড়িতে শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন। নিজস্ব কোনো জমি বা বসতভিটা না থাকায় তারা সরকারের দেওয়া গুচ্ছগ্রামের একটি ঘরে বসবাস করে আসছেন। ভুক্তভোগীর দাবি অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে ওই সরকারি ঘর থেকে তাদের উচ্ছেদ করার উদ্দেশ্যে নানা ধরনের চাপ ও হয়রানি করে আসছিল। লিখিত অভিযোগ অনুযায়ী গত ৫ জুন ২০২৬ তারিখ দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে মোঃ নুরুল ইসলাম, মোঃ ফয়সাল, মোছাঃ ফিরোজা বেগম ও মোছাঃ নুরজাহান বেগম তাদের সরকারি ঘরের সামনে এসে শিরিনা আক্তার ও তার স্বামীকে ঘর ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে বলেন। তারা কোথায় যাবেন জানতে চাইলে অভিযুক্তরা ক্ষিপ্ত হয়ে অকথ্য ভাষায় গালাগাল শুরু করেন এবং একপর্যায়ে তাদের ওপর এলোপাতাড়ি হামলা চালান বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে স্বামী-স্ত্রী উভয়েই আহত হন এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলাফোলা জখমের সৃষ্টি হয়। ভুক্তভোগীর অভিযোগ হামলার সময় মোঃ নুরুল ইসলাম ও মোঃ ফয়সাল ঘরের ভেতরে প্রবেশ করে বিভিন্ন জিনিসপত্র ভাঙচুর ও বাইরে ছুড়ে ফেলেন এবং এতে প্রায় ১২ হাজার টাকার ক্ষতি হয়। একই সঙ্গে মোছাঃ ফিরোজা বেগম ও মোছাঃ নুরজাহান বেগম গালাগাল ও উচ্ছেদের চাপ সৃষ্টি করে পরিস্থিতি উত্তেজিত করে তোলেন বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে। আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন বলে অভিযোগে বলা হয়েছে। অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে অভিযুক্তরা সরকারি ঘরের দুটি স্টিলের জানালা, দুটি দরজা ও টিউবওয়েলের মাথা ভেঙে ফেলেন। পাশাপাশি ঘরের ভেতরে থাকা বিভিন্ন তৈজসপত্র নিয়ে যান। শিরিনা আক্তারের দাবি তার প্রতিবন্ধী ভাতার জন্য সঞ্চিত নগদ ৩০ হাজার টাকাও অভিযুক্তরা নিয়ে গেছেন। এছাড়া বিদ্যুতের মিটারের সংযোগ তার ছিঁড়ে দেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।
ঘটনার ভিডিও ধারণ করার চেষ্টা করলে অভিযুক্তরা ক্ষিপ্ত হয়ে তার ব্যবহৃত একটি আইটেল স্মার্টফোন ও দুটি বাটন ফোন জোরপূর্বক নিয়ে নেন বলে অভিযোগ করেছেন শিরিনা আক্তার। পরে তিনি ও তার স্বামী স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নেন এবং পরিবারের সদস্য ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অনেকেই অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। একজন শারীরিক প্রতিবন্ধী নারী ও তার পরিবারের ওপর এমন হামলা, উচ্ছেদের চাপ, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ মানবিকভাবে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন তারা। এদিকে শিরিনা আক্তার প্রশাসনের কাছে ন্যায়বিচার চেয়ে বলেছেন তিনি ও তার স্বামী বর্তমানে আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। মোঃ নুরুল ইসলাম, মোঃ ফয়সাল, মোছাঃ ফিরোজা বেগম ও মোছাঃ নুরজাহান বেগমের বিরুদ্ধে অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরে তাদের নিরাপদে বসবাস নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তিনি। তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলো তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে প্রত্যাশা করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।