খুলনার পাইকগাছায় চাঁদখালী বাজারে বহুল আলোচিত হাসান হত্যা মামলার প্রধান আসামি নাজমুল হুদা মিন্টুকে র্যাব-৬ গ্রেপ্তার করেছে।
৯ মার্চ মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে খুলনা মহানগরীর লবণচোরা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। র্যাব-৬ এর একটি আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে বলে জানা গেছে।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি চাঁদখালী এলাকায় সংঘটিত হাসান সরদার হত্যা ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে একাধিক ব্যক্তিকে আসামি করে পাইকগাছা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। মামলার পর থেকেই প্রধান আসামি নাজমুল হুদা মিন্টুসহ কয়েকজন আসামি আত্মগোপনে ছিলেন।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারাবাহিক তৎপরতার অংশ হিসেবে র্যাব-৬ প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হবে। মামলার অন্যান্য পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, আলোচিত এ মামলার প্রধান আসামির গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদঘাটন ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার পথ আরও সুগম হবে। উল্লেখ্য উপজেলার চাঁদখালী পশুর হাটে গণপিটুনিতে চাঁদখালী এলাকার মালেক সরদারের ছেলে হাসান কিং (৩৫) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয় গত ৭ জুন রবিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরবর্তী সময়ে বাজারে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রবিবার সন্ধ্যায় চাঁদখালী পশুর হাটে গণপিটুনির শিকার হন হাসান। গুরুতর জখম অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডাঃ নয়ন কুমার সরকার জানান, রাত ৯টার দিকে হাসানকে হাসপাতালে আনা হয়, তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তার মৃত্যু হয়েছিল। খবর পেয়ে রাতেই থানা পুলিশের একটি দল নিহতের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। এ ঘটনায় দু'পক্ষের ভিন্ন দাবি লক্ষ্য করা যায়। ঘটনার কারণ সম্পর্কে পশুর হাটের ইজারাদার ও নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন ও পাল্টাপাল্টি দাবি করা হয়েছে। তবে
মামলার তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালতের রায়ের মাধ্যমেই অভিযুক্তদের দায়-দায়িত্ব চূড়ান্তভাবে নির্ধারিত হবে।