বিশ্ব পরিবেশ দিবস ২০২৬ উপলক্ষে গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গাকৃবি) উপাচার্য ও প্রখ্যাত মৃত্তিকা ও পরিবেশ বিজ্ঞানী প্রফেসর ড. জিকেএম মোস্তাফিজুর রহমান বলেছেন, “প্রকৃতিই আমাদের ভবিষ্যতের পথপ্রদর্শক।” তিনি বলেন, প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় এখনই কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
বৃহস্পতিবার (৫ জুন) ‘জলবায়ু পরিবর্তন, আজকের পদক্ষেপ, আগামীর নিরাপত্তা’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বিশেষ বার্তায় তিনি এসব কথা বলেন।
উপাচার্য বলেন, “প্রকৃতি কেবল আমাদের আশ্রয় নয়, আমাদের শিক্ষকও। পৃথিবীর প্রতিটি বৃক্ষ, নদী, মাটি, জীববৈচিত্র্য ও জলবায়ু ব্যবস্থা পরস্পরের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কযুক্ত। এই ভারসাম্য নষ্ট হলে মানব সভ্যতার ভবিষ্যৎও হুমকির মুখে পড়বে।”
তিনি উল্লেখ করেন, শিল্পবিপ্লব-পূর্ব সময়ের তুলনায় বিশ্ব উষ্ণায়নের ফলে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা ইতোমধ্যে প্রায় ১ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে ঘন ঘন বন্যা, খরা, তাপপ্রবাহ, ঘূর্ণিঝড়, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং কৃষি উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব দেখা দিচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম হওয়ায় পরিবেশ সংরক্ষণ ও টেকসই উন্নয়ন এখন সময়ের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বলে তিনি মন্তব্য করেন।
প্রফেসর ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে বৃক্ষরোপণ, কৃষিবনায়ন, জৈব সার ব্যবহার, পানি সংরক্ষণ এবং পরিবেশবান্ধব কৃষি প্রযুক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে গ্রিনহাউস গ্যাসের নিঃসরণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব। একই সঙ্গে এসব উদ্যোগ কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
তিনি আরও বলেন, “আজকের শিশুদের জন্য আমরা কেমন পৃথিবী রেখে যাচ্ছি, সেটিই আমাদের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। পরিবেশ রক্ষার দায়িত্ব শুধু সরকার বা কোনো প্রতিষ্ঠানের নয়; এটি প্রতিটি নাগরিকের নৈতিক দায়িত্ব। একটি বৃক্ষ রোপণ, প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানো কিংবা পানির অপচয় রোধের মতো ছোট ছোট উদ্যোগই বড় পরিবর্তনের ভিত্তি গড়ে তুলতে পারে।”
উপাচার্য তাঁর বক্তব্যে গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবান্ধব ও সবুজ ক্যাম্পাস গড়ে তোলার বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন। তিনি জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ, জল ও মাটি ব্যবস্থাপনা প্রযুক্তির উন্নয়ন, নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার এবং জলবায়ু সহনশীল কৃষি গবেষণাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে তিনি শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী, কৃষক এবং দেশের সকল নাগরিকের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “প্রকৃতির সঙ্গে সংঘাত নয়, সহাবস্থানই হতে হবে আমাদের উন্নয়নের দর্শন। আসুন, প্রকৃতি থেকে প্রেরণা নিয়ে জলবায়ু সুরক্ষা এবং আগামী প্রজন্মের নিরাপদ ভবিষ্যৎ নির্মাণে আমরা সবাই একসঙ্গে কাজ করি।”