October 8, 2026, 11:50 pm

শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার কথা স্বীকার খুনি সোহেল রানার: চট্টগ্রামে ফাঁসির দাবিতে IHRCG-এর মানববন্ধন!

মো: আলাউদ্দীন হিরু,ফটিকছড়ি, চট্টগ্রাম 

​রাজধানী ঢাকায় অবুঝ শিশু রামিসাকে পাশবিকভাবে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে গলা কেটে হত্যার মূল হোতা ও প্রধান আসামি সোহেল রানাকে গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। গ্রেফতারের পর পুলিশের কাছে সে নিজে মুখে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার রোমহর্ষক জবানবন্দি ও স্বীকারোক্তি দিয়েছে।

​এদিকে এই জঘন্যতম অপরাধের খবর ছড়িয়ে পড়লে খুনি সোহেল রানার দ্রুততম সময়ে ফাঁসির রায় কার্যকরের দাবিতে বন্দরনগরী চট্টগ্রামে এক বিশাল মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ ২৪ মে (রবিবার) চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব চত্বরে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার কমিশন গ্লোবাল (IHRCG), বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের উদ্যোগে এই মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়।

​মানববন্ধন চলাকালীন সময়ে ঢাকার এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি সোহেল রানার গ্রেফতার ও জবানবন্দি দেওয়ার খবর এলে উপস্থিত আন্দোলনকারীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করে। বক্তারা অবিলম্বে এই নরপশুর দৃষ্টান্তমূলক ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান।

​মানববন্ধনে বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ঢাকায় রামিসার ওপর যে পাশবিক নির্যাতন চালিয়ে এবং শেষে গলা কেটে যেভাবে হত্যা করা হয়েছে, তা কোনো সুস্থ মানুষের কাজ হতে পারে না। এই পৈশাচিক ঘটনা পুরো মানবতাকে লজ্জিত করেছে।

​বক্তব্য দিতে গিয়ে মানবাধিকার নেতৃবৃন্দ জোর দিয়ে বলেন:

​”যেহেতু প্রধান আসামি সোহেল রানা নিজেই ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে, তাই এই মামলার বিচারে আর কোনো দীর্ঘসূত্রিতার সুযোগ নেই। আমরা প্রশাসন ও বিচার বিভাগের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি, এই মামলাটি যেন অতি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের অধীনে নিয়ে আসা হয়। কোনো প্রকার কালক্ষেপণ ছাড়া, দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই নরপশু সোহেল রানার ফাঁসির রায় ঘোষণা এবং তা কার্যকর করতে হবে। সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং এ ধরনের জঘন্য অপরাধের পুনরাবৃত্তি রোধে এই দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।”

​মানববন্ধনে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার কমিশন গ্লোবাল (IHRCG) বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন সামাজিক ও মানবাধিকার সংগঠনের কর্মী, গণমাধ্যমকর্মী এবং সর্বস্তরের সাধারণ জনতা উপস্থিত হয়ে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানান।

​উক্ত মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন এবং বক্তব্য রাখেন—

​মুস্তাফা আলম মাসুম

​সম্রাট আওরঙ্গজেব

​আব্দুর রহিম

​মারুফা আক্তার

​তাহেরা মহরম

​মোঃ আলাউদ্দীন হিরু

তানিশা সহ আরো অনেকে।

​মানববন্ধনের সমাপনী বক্তব্যে আয়োজক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, খুনি সোহেল রানা গ্রেফতার হলেও যতক্ষণ না পর্যন্ত আদালত কর্তৃক তার সর্বোচ্চ শাস্তি অর্থাৎ ফাঁসি প্রকাশ্য দিবালোকে কার্যকর হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত মানবাধিকার কর্মীরা রাজপথ ছাড়বেন না। নির্যাতিত শিশু রামিসার আত্মা যেন শান্তি পায় এবং তার পরিবার যেন দ্রুততম সময়ে সুষ্ঠু বিচার দেখে যেতে পারে, সেজন্য তারা সরকারের উচ্চ মহলের সার্বক্ষণিক নজরদারি ও জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।