অসুস্থ মাকে চোখের দেখা দেখতে ও সেবা করতে মাত্র কয়েকদিন আগেই ওমান থেকে দেশে ফিরেছিলেন ২৬ বছর বয়সী যুবক মোহাম্মদ রায়হান। কিন্তু মায়ের সেবা করে আর প্রবাসে ফেরা হলো না তাঁর। এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা কেড়ে নিল এই রেমিট্যান্স যোদ্ধার তাজা প্রাণ।
আজ শুক্রবার (২২ মে) দুপুরে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড এলাকায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় রায়হানের মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় মোটরসাইকেলের পেছনে থাকা তাঁর এক বন্ধুও গুরুতর আহত হয়েছেন। তাঁর অবস্থাও আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
নিহত মোহাম্মদ রায়হান ফটিকছড়ি উপজেলার সুন্দরপুর ইউনিয়নের ছোট ছিলোনিয়া এলাকার বাসিন্দা। তিনি ২ বোন ও ১ ভাইয়ের মধ্যে সবার ছোট ছিলেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, রায়হানের মা দীর্ঘদিন ধরে গুরুতর অসুস্থ। মূলত মায়ের পাশে থাকতেই সম্প্রতি ওমান থেকে ছুটিতে দেশে আসেন তিনি। গতকাল বৃহস্পতিবার (২১ মে) রায়হান ও তাঁর বন্ধু সীতাকুণ্ডে বেড়াতে গিয়েছিলেন। আজ শুক্রবার সেখান থেকে মোটরসাইকেলযোগে নিজ বাড়ি ফটিকছড়িতে ফেরার কথা ছিল তাঁদের।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পারিবারিক সূত্র জানায়, পথিমধ্যে জুমার নামাজের সময় হলে তাঁরা সীতাকুণ্ডের গফুর শাহ জামে মসজিদের দিকে যাচ্ছিলেন। এ সময় তাঁদের বহনকারী মোটরসাইকেলটি একটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দারা রক্তাক্ত অবস্থায় দুজনকে উদ্ধার করে দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রায়হানকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত অপর যুবককে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে রায়হানের এই আকস্মিক ও হৃদয়বিদারক মৃত্যুর খবর ফটিকছড়ির সুন্দরপুর এলাকায় পৌঁছালে পুরো এলাকায় স্তব্ধতা নেমে আসে। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে এলাকার বাতাস।
নিহতের মামাতো বোন সাবরিনা শোকার্ত কণ্ঠে বলেন, “ওর মা ভীষণ অসুস্থ, মূলত মাকে দেখভালের জন্যই ও প্রবাস থেকে দেশে এসেছিল। এখনো বিশ্বাস করতে পারছি না রায়হান আর আমাদের মাঝে নেই।”
রায়হানের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে তাঁর চাচাতো ভাই আলমগীর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেছেন, “ওমান প্রবাসী চাচাতো ভাই রায়হান অল্প কিছুক্ষণ আগে মোটরসাইকেল এক্সিডেন্ট করে নিহত হয়েছেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।”
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রায়হানের এই অকাল মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে ফটিকছড়িসহ সর্বস্তরের মানুষের মাঝে গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে। নেটিজেনরা তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনা করে শোক প্রকাশ করছেন। অসুস্থ মায়ের কোলে ফেরার আগেই তরতাজা এই যুবকের এমন চলে যাওয়া কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না এলাকাবাসী।