গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কাপাসিয়া ইউনিয়নের কছিম বাজার খেয়া ঘাটসহ ৪টি খেয়া ঘাটে সরকারি নির্ধারিত টোলের চেয়ে প্রায় তিনগুণ অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগে ইজারাদারের বিরুদ্ধে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে। আজ ১৯ মে মঙ্গলবার তিস্তা নদীর তীরে রাজার চর সংলগ্ন এলাকায় মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে এলাকাবাসীর। অতিরিক্ত টাকা আদায়ের ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে চরাঞ্চলের হাজারো কৃষক, শিক্ষার্থী ও নিম্নআয়ের মানুষ। এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, উপজেলার কাপাসিয়া ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৮টি ওয়ার্ডের মানুষের চলাচলের একমাত্র গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম খেয়া ঘাটের নৌকা। প্রতিদিন প্রায় ৫ হাজারের বেশি মানুষ নৌকায় এসব ঘাট ব্যবহার করে নদী পারাপার করে আসছে। বর্তমানে ৪টি খেয়া ঘাটে নৌকা দিয়ে নিয়মিত যাত্রী পারাপার করা হচ্ছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, সরকারি নির্ধারিত টোল উপেক্ষা করে ইজারাদার যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ৩০ থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত আদায় করছে। বিশেষ করে শ্রমজীবী মানুষ, দিনমজুর ও শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার হচ্ছে। অতিরিক্ত ভাড়া দিতে গিয়ে অনেক পরিবারকে প্রতিদিন হিমশিম খেতে হচ্ছে। কাপাসিয়া ইউনিয়নের চরাঞ্চলে সরকারি আবাসন প্রকল্পের আওতায় নির্মিত ৫টি আশ্রয়ণ প্রকল্পে প্রায় ৮০০ পরিবার বসবাস করছে। এসব পরিবারের সদস্য সংখ্যা প্রায় ৪ হাজারেরও বেশি। কাজের অভাবে অনেকেই জীবিকার সন্ধানে জেলার বাইরে অবস্থান করেন। ফলে নিয়মিত যাতায়াতের জন্য খেয়া ঘাটের ওপর তাদের নির্ভরতা অত্যন্ত বেশি। এছাড়াও চরাঞ্চলে প্রায় ৩০ হাজার মানুষের বসবাস হওয়ায় ঘাট গুলোর গুরুত্ব অনেক বেশি বলে জানান স্থানীয়রা। অতিরিক্ত টোল আদায়ের প্রতিবাদে শতশত নারী-পুরুষ তিস্তা নদীর তীরে রাজার চর সংলগ্ন এলাকায় ১৯ মে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন। মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষের অসহায়ত্বকে পুঁজি করে ইজারাদার অতিরিক্ত টাকা আদায় করে আসছে। এতে সাধারণ মানুষের মাঝে ক্ষোভ ও অসন্তোষ বাড়ছে। মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন কাপাসিয়া ইউনিয়ন শাখার বিএনপির সভাপতি জামাল উদ্দিনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। বক্তারা অবিলম্বে অতিরিক্ত টোল আদায় বন্ধ, সরকারি নির্ধারিত হার কার্যকর এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়। এবিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করে এলাকাবাসী বলেন, চরাঞ্চলের দরিদ্র মানুষের জীবন-জীবিকার কথা বিবেচনা করে খেয়া ঘাটে নৈরাজ্য বন্ধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।