বিশ্ব রাজনীতিতে এক রহস্যজনক অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। আর তার কেন্দ্রবিন্দুতে আছে চীন। আর আসল ক্রীড়ানক হিসেবে কলকাঠি নাড়ছেন বেইজিংয়ের সর্বাধিনায়ক শি জিনপিং। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চীন সফর শেষ করতে না করতেই খবর বেরিয়েছে এবার শি চজিনপিংয়ের ডেরায় আতিথ্য নিচ্ছে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তাই তো প্রশ্নটা বড় করেই সামনে আসছে, আসলে কি ঘটছে পর্দার আড়ালে?
হংকংভিত্তিক সংবাদমাধ্যম সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী ২০ মে এক দিনের সংক্ষিপ্ত সফরে বেইজিং যেতে পারেন রুশ রাষ্ট্রপ্রধান। মূলত নিয়মিত দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগের অংশ হিসেবে এই সফর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। তবে দুই দেশের পক্ষ থেকে সফরের তারিখ নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা আসেনি।
দীর্ঘ নয় বছর পর কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর তিন দিনের চীন সফর শেষ করেছেন আজ শুক্রবার। এই সফরে চীনা প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে বাণিজ্য, তাইওয়ান ও মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের মতো গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক ইস্যুতে তাঁর বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। ট্রাম্পের প্রস্থানের পরপরই পুতিনের এই সম্ভাব্য সফরকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হচ্ছে।
ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানিয়েছেন, পুতিনের সফরের প্রস্তুতি প্রায় চূড়ান্ত এবং শিগগিরই এর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হবে। তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, পুতিনের এই সফর আগে থেকেই নির্ধারিত ছিল এবং এর সঙ্গে ট্রাম্পের বেইজিং সফরের কোনো সরাসরি সম্পর্ক নেই।
পুতিনের এই সফর সফল হলে বৈশ্বিক কূটনীতিতে এক অনন্য রেকর্ডের অংশীদার হবে চীন। আন্তর্জাতিক কোনো সম্মেলন ছাড়াই একই মাসে বিশ্বের দুই শীর্ষ পরাশক্তির নেতাকে আতিথেয়তা দেওয়ার নজির গড়তে যাচ্ছে দেশটি। এছাড়া গত বছরের ডিসেম্বরে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ এবং চলতি বছরের জানুয়ারিতে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার চীন সফর করায়, মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের বাকি চারটি স্থায়ী সদস্যদেশের সরকারপ্রধানদের বরণ করে নেওয়ার বিরল কৃতিত্ব অর্জন করবে বেইজিং।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দুই নেতার বৈঠকের বিষয়ে মস্কোর সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে এবং উপযুক্ত সময়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে।