টানা দ্বিতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে উঠেছে প্যারিস সেন্ট জার্মেই। বায়ার্ন মিউনিখের বিপক্ষে সেমিফাইনালের দ্বিতীয় লেগে ১-১ গোলে ড্র হলেও দুই লেগ মিলিয়ে ফাইনালের টিকিট কেটেছে লুইস এনরিকের দল।
বুধবার রাতে বায়ার্নের ঘরের মাঠ অ্যালিয়েঞ্জ অ্যারেনায় প্রথমে গোল করে পিএসজিকে এগিয়ে দেন ওসমান ডেম্বেলে। বায়ার্নের হয়ে গোলটি আসে হ্যারি কেইনের পা থেকে।
গত সপ্তাহে প্যারিসে প্রথম লেগের রোমাঞ্চকর ম্যাচে ৫-৪ ব্যবধানে জিতেছিল পিএসজি। তাই দুই লেগ মিলিয়ে ৬-৫ গোলের অগ্রগামিতায় ফাইনালে ওঠে দলটি।
ম্যাচের তৃতীয় মিনিটেই একটি দুর্দান্ত ফিনিশে গোল করে পিএসজিকে এগিয়ে দেন ডেম্বেলে। এই গোলে ছিল খিচা কাভারাতসেখেলিয়ার অসাধারণ অবদান। বাম প্রান্ত দিয়ে ক্ষিপ্র গতিতে বল নিয়ে রক্ষণভাগ চিরে ভেতরে ঢুকে দেম্বেলেকে লক্ষ্য করে কাটব্যাক পাস দিয়েছিলেন এই ফরোয়াড।
এই অ্যাসিস্টের মাধ্যমে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে এক মৌসুমে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের নকআউট পর্বের টানা সাতটি ম্যাচে গোল বা অ্যাসিস্ট করার রেকর্ড গড়লেন কাভারাতসেখেলিয়া। বর্তমানে এই মৌসুমে তার গোল ১০, ৬ অ্যাসিস্ট, যেটা কিলিয়ান এমবাপ্পের সমান।
ম্যাচজুড়ে বারবার চেষ্টার পর অবশেষে অতিরিক্ত সময়ে বায়ার্নের হয়ে গোল করেন কেইন। তবে, বায়ার্নকে ফাইনালে তুলতে সেটি যথেষ্ট ছিল না। এর ফলে ২০২০ এবং ২০১৩ সালের মতো 'ট্রেবল জয়ের স্বপ্ন এক গোলের ব্যবধানে শেষ হয়ে যায় বায়ার্নের।
চলমান মৌসুমে ৪৩ ও ৪২ গোল করে এই টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতা দল হিসেবে দ্বিতীয় লেগে খেলতে নেমেছিল পিএসজি ও বায়ার্ন। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ইতিহাসে এই প্রথম একই মৌসুমে দুটি দল ৪০-এর বেশি গোল করার রেকর্ড গড়ল, যেখানে অবশ্য টুর্নামেন্টের নতুন 'লিগ ফেজ' ফরম্যাট বড় ভূমিকা রেখেছে।
এদিকে, অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদকে হারিয়ে ১-০ গোলে জয় নিশ্চিত করে ফাইনালে আগেই জায়গা করে নিয়েছে আর্সেনাল।
রিয়াল মাদ্রিদের পর দ্বিতীয় দল হিসেবে টানা দুইবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জেতার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামবে পিএসজি। ২০১৬ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে টানা তিনবার এই শিরোপা জিতেছিল রিয়াল।
আগামী ৩০ মে বুদাপেস্টে আর্সেনালের মুখোমুখি হবে ফরাসি জায়ান্টরা।