স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন (এসডিএফ) এর চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) পদত্যাগের এক দফা দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে প্রতিষ্ঠানটি। অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের অধীনস্থ এই সংস্থার শীর্ষ দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সীমাহীন দুর্নীতি, অনিয়ম এবং অব্যবস্থাপনার অভিযোগ তুলে বৃহস্পতিবার (৭ মে) সকাল থেকে কর্মবিরতি ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
মঙ্গলবার সকাল হতে শুরু করে বৃহস্পতিবার অফিস চলমানে রাজধানীর এসডিএফ কার্যালয়ের সামনে ব্যানার ও ফেস্টুন হাতে জড়ো হন সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারী ফোরামের সদস্যরা। এসময় তারা ‘এক দফা এক দাবি’ স্লোগান দিয়ে চেয়ারম্যান ড. আব্দুল মজিদ এবং এমডি নুরুল আমিনের অবিলম্বে পদত্যাগ দাবি করেন। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে পরিচালিত ‘রেজিলিয়েন্স, এন্ট্রাপ্রেনিওরশীপ এন্ড লাইভলীহুড ইমপ্রুভমেন্ট’ (RELI) প্রকল্পের কর্মীদের এই আন্দোলনের সাথে প্রধান কার্যালয়ের কর্মকর্তাগণ সংহতি প্রকাশ করেছেন।
আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর দুর্নীতির অভিযোগ আনা হয়েছে:
ল্যাপটপ ক্রয়ে কোটি টাকা আত্মসাৎ: অভিযোগ উঠেছে, RELI প্রকল্পের আওতায় ৩২০০টি ল্যাপটপ ক্রয়ে ১৬ কোটি টাকার সর্বনিম্ন টেন্ডার বাতিল করে কোনো প্রক্রিয়া ছাড়াই একটি নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠান থেকে দ্বিগুণ মূল্যে নিম্নমানের ল্যাপটপ কেনা হয়েছে। এতে প্রায় ১৫-১৬ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে, যা বর্তমানে বিশ্বব্যাংকের তদন্তনাধীন।
নিয়োগ বাণিজ্য ও বিধি লঙ্ঘন: এইচআর পলিসি অনুযায়ী এমডি পদের বয়সসীমা ৬০ বছর হলেও এইচআর পলিসি লঙ্ঘন করে চেয়ারম্যান তার পছন্দের ব্যক্তিকে নিয়োগ দিতে বয়স বাড়িয়ে ৬২ বছর করে সার্কুলার প্রদান করেন এবং অনেক যোগ্য ব্যক্তিকে বাদ দিয়ে, তার সুবিধা মতো, অভিজ্ঞতা ছাড়াই নুরুল আমিনকে এমডি পদে বসান।
সম্পদ তছরুপ: ব্যক্তিগত স্বার্থে অফিস স্থানান্তর করে প্রতিষ্ঠানের কোটি কোটি টাকার আসবাবপত্র ও সরঞ্জাম নামমাত্র মূল্যে বিক্রি এবং এনডাওমেন্ট ফান্ডের অর্থ বিধি বহির্ভূতভাবে ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে।
আন্দোলনরত কর্মকর্তারা জানান, বর্তমান প্রশাসনের বিতর্কিত সিদ্ধান্তের কারণে বিশ্বব্যাংকের সাথে এসডিএফ-এর দীর্ঘ ২৫ বছরের সুসম্পর্ক এখন হুমকির মুখে। ২০২২ সালে নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মীদের মেয়াদ ২০২৬ সাল পর্যন্ত থাকলেও হঠাৎ করে চলতি মাসে প্রকল্প সমাপ্তির ঘোষণা আসায় শত শত কর্মী বেকার হওয়ার উপক্রম হয়েছে। এছাড়া দক্ষ কর্মীদের সুযোগ না দিয়ে আর্থিক বিনিময়ে নতুন লোক নিয়োগ এবং সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কর্মকর্তাদের অন্যায্য বদলি ও শোকজ করে পদত্যাগে বাধ্য করার অভিযোগও উঠেছে।
বিক্ষোভের কারণে প্রকল্পের দাপ্তরিক কার্যক্রমে স্থবিরতা নেমে এসেছে। RELI প্রকল্পের একজন প্রতিনিধি বলেন, "প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পর্যায়ের অসহযোগিতা ও দুর্নীতির কারণে দরিদ্র মানুষের জীবনমান উন্নয়নের মূল লক্ষ্য ব্যাহত হচ্ছে। স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে পদত্যাগ ছাড়া আমাদের আর কোনো পথ নেই।"
আন্দোলনকারীরা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, দ্রুত সময়ের মধ্যে মন্ত্রণালয় কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে তারা আরও বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করবেন। প্রতিষ্ঠানটিকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষায় তারা প্রধানমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।