গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার বালাসি ঘাট থেকে সৈয়দপুর ঘাট পর্যন্ত পুরাতন বাঁধ সংলগ্ন বিস্তীর্ণ এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বালু উত্তোলন ও পরিবহনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে ড্রেজার (বলকেট মেশিন) ব্যবহার করে বালু উত্তোলন করে তা ঘাট এলাকায় মজুদ ও বিক্রি করা হচ্ছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নদী থেকে উত্তোলিত বালু ঘাট এলাকায় স্তূপ করে রাখা হচ্ছে এবং সেখান থেকে ট্রাক, টলি ও ট্রাক্টরসহ বিভিন্ন যানবাহনে করে পরিবহন করা হচ্ছে। প্রতিবেদক প্রায় আধা ঘণ্টা অবস্থানকালে অন্তত ১০টিরও বেশি বালুবাহী গাড়ি ওই সড়ক দিয়ে চলাচল করতে দেখা যায়। এতে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ বালু পরিবহনের বিষয়টি স্পষ্ট হয়।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, বালাসি ঘাট থেকে পুরাতন বাঁধ সংলগ্ন সৈয়দপুর ঘাট পর্যন্ত অন্তত ১০টিরও বেশি বালু পয়েন্ট সক্রিয় রয়েছে। এসব যানবাহনের বেপরোয়া চলাচলে সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং ধুলাবালিতে জনজীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর আশপাশে এসব বালুবাহী যান চলাচলের কারণে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ধুলাবালি ও শব্দদূষণের কারণে পাঠদানের পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে বলে জানান স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে
এই বালু উত্তোলন ও পরিবহন কার্যক্রম কি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে, নাকি যথাযথ নজরদারির অভাবে অব্যাহত রয়েছে?
সৈয়দপুর দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রকিব বলেন, শিক্ষার পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিষয়টি আমরা প্রশাসনকে জানিয়েছি।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এলাকাবাসীর দাবি,
অবিলম্বে অবৈধ বালু উত্তোলন নিয়ন্ত্রণ, সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও জনসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।