ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার চান্দা ইউনিয়নে আড়িয়াল খাঁ নদের ওপর নির্মিত হচ্ছে ৩১৫ মিটার দীর্ঘ পিসি গার্ডার ব্রিজ। এই ব্রিজটি চালু হলে দীর্ঘদিনের ভোগান্তি দূর হবে স্থানীয় ৪টি ইউনিয়নের মানুষের। প্রায় ৬১ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই বিশাল প্রকল্পটি এখন বাস্তবায়নের শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এই ব্রীজটি সম্পূর্ণ হলে টি উপজেলার সাথে যাতায়াতের মিলন মেলা হবে। ভাঙ্গা , সদরপুর ও শিবচরের মোহনায় ব্রীজটির অবস্থান ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এই ব্রিজের অভাবে দীর্ঘকাল ধরে ৪টি ইউনিয়নের মানুষকে যাতায়াতের জন্য প্রায় ১০ কিলোমিটার পথ ঘুরে গন্তব্যে পৌঁছাতে হতো। ব্রিজটি নির্মিত হলে এই দূরত্ব কমে মাত্র ১ কিলোমিটারে নেমে আসবে। এতে যাতায়াত সুবিধার পাশাপাশি এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে। ঐ এলাকাগুলোতে প্রায় ১৫ হাজার জনগণের বসবাস । এখানে সব থেকে বেশি সুফল ভোগ করবে কৃষকেরা ।
নদী পাড়ের বাসিন্দারা জানান, ব্রিজটি তাদের বহু বছরের স্বপ্ন। এটি চালু হলে একদিকে যেমন সময় ও অর্থ সাশ্রয় হবে, অন্যদিকে শিক্ষা ও চিকিৎসার ক্ষেত্রেও এই অঞ্চলের মানুষ বিশেষ সুবিধা ভোগ করবে।

ভাঙ্গা উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ মালিক নাজমুল হাসান জানান, এলজিইডির অধীনে এই ব্রিজের নির্মাণ কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। তিনি বলেন, " এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী আজাহারুল ইসলাম এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে ও পিডি মহোদয়ের দিক-নির্দেশনায় আমরা কাজের সর্বোচ্চ মান নিশ্চিত করছি। আশা করা যাচ্ছে, চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই ব্রিজটির কাজ সম্পন্ন হবে এবং যাতায়াতের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।"

প্রকল্পের কনসালটেন্ট মেহেদী হাসান বাপ্পি জানান, ৩১৫ মিটারের এই পিসি গার্ডার ব্রিজটি এই অঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে মাইলফলক হয়ে থাকবে। এটি সম্পন্ন হলে আশেপাশের গ্রামগুলোর আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন ঘটবে, যোগাযোগ ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আসবে এবং স্থানীয়ভাবে দারিদ্র্য বিমোচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এলজিএইডির নির্বাহী প্রকৌশলী আজাহারুল ইসলাম জানান , আমরা অতিদ্রুত ব্রীজটির নির্মাণ কাজ শেষ করার জন্য ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে তাগিদ দেয়া হয়েছে , আশা করি ডিসেম্বরের মধ্যেই ব্রীজটি চালু করা হবে জনগণের সেবায় ।