ফরিদপুরের শাপলা মহিলা সংস্থার এসকেসিডিসি মিলনায়তনে ‘Enhancing Protection of Child Sex Trafficking Survivors in Bangladesh’ প্রকল্পের আওতায় এক গুরুত্বপূর্ণ অ্যাডভেকেসি মিটিং অনুষ্ঠিত হয়।
সোমবার ফ্রিডম ফান্ডের আর্থিক সহযোগিতায় এবং শাপলা মহিলা সংস্থার আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুর সদরের উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) জনাব মেশকাতুল জান্নাত রাবেয়া।
স্বাগত বক্তব্যের মাধ্যমে সভার শুরুতেই যৌনপল্লীর শিশু ও নারীদের আইনি সহায়তার অভাব, অবহেলিত জীবনমান এবং সরকারি-বেসরকারি সুবিধা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতাগুলো তুলে ধরা হয়। বিশেষ করে, পাচার হওয়া শিশুদের বয়স জালিয়াতি এবং মাঠ পর্যায়ে কাজ করতে গিয়ে বাড়িওয়ালাদের অসহযোগিতার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে আলোচিত হয়।
ফরিদপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি জনাব লিয়াকত আলী খান (বুলু) জানান, "নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে ভুয়া কাগজ তৈরি করে বয়স বাড়িয়ে যৌনকর্মে নিয়োজিত করার আইনি কোনো ভিত্তি নেই। আমরা আগামী মিটিংয়ে বিষয়টি উত্থাপন করব এবং প্রজ্ঞাপন জারির ব্যবস্থা নেব যাতে বৈধ কাগজপত্র ছাড়া কেউ বয়স বাড়িয়ে নিতে না পারে।"
ফরিদপুর মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মাউশুদা হোসেন শাপলা মহিলা সংস্থার কাজের প্রশংসা করে বলেন, "আগ্রহী সারভাইভারদের জন্য আমাদের দপ্তর থেকে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে। এছাড়া C & B ঘাটে স্থাপিত আমাদের 'হাব' থেকে তারা প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করতে পারবে।"
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউএনও জনাব মেশকাতুল জান্নাত রাবেয়া বলেন, "যৌনপল্লীর বাড়িওয়ালারা যদি সংস্থার কর্মীদের কাজে বাধা দেয়, তবে তাদের তালিকা আমাদের দিন। আমরা প্রশাসনিকভাবে এর ব্যবস্থা নেব। এছাড়া ভুয়া নোটারির বিষয়ে সঠিক তথ্য প্রমাণ পেলে আমরা কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করব।"
সভায় বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের প্রতিনিধি, আইনজীবী ও মানবাধিকার কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।