জামালপুরে বিএনপির দুই নেতার অডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ গণমাধ্যমে প্রকাশের প্রতিবাদ জানিয়েছেন জেলা শ্রমিকদলের সভাপতি শেখ আব্দুস সোবহান। এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জেলা মৎস্যজীবী দলের সভাপতি আব্দুল হালিমের বিরুদ্ধে এডিট করে খণ্ডিত কলরেকর্ড ছড়িয়ে দিয়ে তাকে রাজনৈতিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার দাবি করেছেন।
সোমবার সকাল সাড়ে ১১টায় শহরের উপজেলা পরিষদের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জেলা শ্রমিকদলের সভাপতি শেখ আব্দুস সোবহান বলেন, 'গত এপ্রিল মাসে জামালপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় হতে ছনকান্দা-চর যথার্থপুর বালুমহালের ইজারারা দরপত্র আহ্বান করা হয়। সে মোতাবেক আমরা ইজারার দরপত্র ক্রয় করি। ১৯ শে এপ্রিল দরপত্র দাখিলের দিন ধার্য ছিল। আগের দিন অর্থাৎ ১৮ই এপ্রিল জামালপুর সদর আসনের এমপি এড. শাহ মো. ওয়ারেছ আলী মামুন মহোদয়ের বরাত দিয়ে জামালপুর সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. রুহুল আমীন মিলন, জেলা মৎসজীবী দলের সভাপতি আ. হালিম আমাকেসহ ইজারার সিডিউল ক্রয়কারীদের এমপি মহোদয়ের চেম্বারে ডেকে নেন। রুহুল আমীন মিলনের ফোনে আমার সাথেও এমপি মহোদয়ের কথা হয়। এমপি মহোদয় আমাকে সমঝোতার জন্য আহ্বান জানান। যেহেতু আমি ৯নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা, আমরা অধিকাংশ ইজারার সিডিউল গ্রহীতারা এমপি মহোদয়ের ব্যক্তিগত চেম্বারে একত্রিত হই। সেই দিন রাত্রেই রুহুল আমীন মিলন ও যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান বাকি সিডিউলগুলো বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে জমা নেন।'
তিনি আরও বলেন, '১৯ এপ্রিল সকালে আমরা সকলেই মিলে এমপি মহোদয়ের চেম্বারে সমঝোতার বৈঠকে বসি। আলাপ-আলোচনা করে ৯নং ওয়ার্ড বিএনপির (পূর্ব শাখা) সাধারণ সম্পাদক মো. আমিনুল ইসলামের আমেনা এন্টার প্রাইজের নামে ছনকান্দা চর যথার্থপুর বালু মহালের সর্বোচ্চ দরদাতা করার সিদ্ধান্ত হয়। আমাদের সকলের সিডিউলগুলো রুহুল আমীন মিলন ও আ. হালিম জমা নেন। সিদ্ধান্ত হয় সর্বোচ্চ দরদাতাসহ ৩টি সিডিউল আ. হালিম জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে রক্ষিত টেন্ডার ব্যাক্সে জমা দেবে। আমরা বিডিসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আ. হালিমের কাছে জমা দেই। পরে জানতে পারি আমাদের সমঝোতা সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে (আমিনুল ও হালিমের বক্তব্য অনুযায়ী) জামালপুর সদরের এমপি মহোদয়ের নির্দেশে গোপনে চুরি করে আমেনা এন্টার প্রাইজের অর্থাৎ আমিনুলের লাইসেন্সের বিডি সরিয়ে ফেলেন। শামীম এন্টারপ্রাইজের অর্থাৎ শামীম মাস্টারের স্ত্রীর নামে লাইসেন্সকে সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে দরপত্র বাক্সে জমা দেন। আমেনা এন্টারপ্রাইজের অর্থাৎ আমিনুলের সিডিউল বিডি ছাড়াই দরপত্র বাক্সে জমা করে। মূলত এমপি মহোদয়ের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার জন্য এই ঘটনাটি ঘটিয়েছে। এই ঘটনার পর বালু মহালের সাথে জড়িত সকলেই সংক্ষুব্ধ হন।'
তিনি বলেন, 'এই এলাকার সন্তান হিসেবে সকলেই আমাকে এবং সমঝোতা বৈঠকে উপস্থিত নেতৃবৃন্দের উপর বিশ্বাস ভঙ্গের অভিযোগ করেন। একপর্যায়ে আমি নিজেও এমপি মহোদয়কে ফোন দেই। তিনি ফোনে সাড়া না দেওয়ায় আমি হালিমকে ফোন দেই। হালিমও ফোনে সাড়া দিচ্ছিল না। তাতে উপস্থিত সকলেই আরও বেশি ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। একপর্যায়ে হালিম ফোন ধরলে আমি তাকে জিজ্ঞাস করতেই তিনি বলেন, এমপি সাহেবের নির্দেশে তিনি এই কাজ করছেন, যদিও অডিওতে এই অংশটুকু কেটে ফেলা হয়েছে। তিনি অনেক উল্টপাল্টা কথা বলেছেন। আমাকে রাগাণ্বিত করে কৌশলে আমাদের কথাবার্তা রেকর্ড করেছেন। সেই ফোন রেকর্ড এডিট করে কাটছাট করে গণমাধ্যমে সরবরাহ করেছেন, যা গত দুই দিন ধরে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচারিত হচ্ছে।'
তিনি আরও বলেন, 'আমাকে ব্যক্তিগত, সামজিক ও রাজনৈতিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য তিনি এই অপচেষ্টা চালিয়েছেন। আমি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।'
এ বিষয়ে অভিযুক্ত জেলা মৎস্যজীবী দলের সভাপতি আব্দুল হালিম জানান, 'সংবাদ সম্মেলনে আমাকে ও এমপি মহোদয়কে জড়িয়ে তিনি যেসব দাবি করেছেন তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। তার সঙ্গে আমার যতটুকু কথা হয়েছে ততটুকু অডিও ক্লিপই ভাইরাল হয়েছে, একটুও কমবেশি নয়।'
তিনি আরও বলেন, 'তিনি এ ঘটনায় মাননীয় সাংসদকে জড়িয়েছেন। মাননীয় সাংসদ এ ঘটনায় বিন্দুমাত্র জড়িত নন।'
এ বিষয়ে অভিযুক্ত সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. রুহুল আমীন মিলন জানান, 'এ ঘটনার বিষয়ে আমার কিছু জানা নাই।'
সংবাদ সম্মেলনে জেলা শ্রমিকদলের সাবেক যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক শামীম হোসেন মঙ্গল, জেলা যুবদলের সদস্য মো. নূর ইসলাম কালা, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সহ-সভাপতি হাবিবুর রহমান রতন, শিলা এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী নাহিদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।