জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলায় প্রকাশ্যে দা দিয়ে কুপিয়ে এক ব্যক্তির বাম হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলি বিচ্ছিন্ন করার মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার পর অভিযুক্ত নিজেই রক্তমাখা অবস্থায় থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করে নিজেকে দোষী দাবি করেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে হামলায় ব্যবহৃত দা উদ্ধার করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সরিষাবাড়ী উপজেলার ডোয়াইল ইউনিয়নের টাঙ্গাইল রাজুদিয়া এলাকার মৃত মহর আলীর ছেলে রাজমিস্ত্রি আনোয়ার হোসেন তার প্রতিবেশী শিপন মিয়াকে সঙ্গে নিয়ে চা খেয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে মজিবর রহমানের বাড়ির দক্ষিণ পাশে পৌঁছালে একই গ্রামের মৃত বশির খানের ছেলে সাইদুল ইসলাম (৩৫) পেছন থেকে অতর্কিতভাবে তাদের ওপর হামলা চালায়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, এ সময় সাইদুল ইসলাম দা দিয়ে আনোয়ার হোসেনকে কোপ দিলে তিনি হাত দিয়ে ঠেকানোর চেষ্টা করেন। এতে দা’র কোপে তার বাম হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলি বিচ্ছিন্ন হয়ে ঘটনাস্থলেই পড়ে যায়। এ ঘটনায় আনোয়ার হোসেন ও তার সঙ্গে থাকা শিপনের চিৎকারে স্থানীয়রা দ্রুত ছুটে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
হামলার পরপরই অভিযুক্ত সাইদুল ইসলাম রক্তাক্ত অবস্থায় নিজ শরীরে রক্ত মেখে সরিষাবাড়ী থানায় উপস্থিত হন এবং আত্মসমর্পণের মাধ্যমে গ্রেফতারের অনুরোধ জানান। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে হামলায় ব্যবহৃত দা উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।
গুরুতর আহত আনোয়ার হোসেনকে স্থানীয়রা দ্রুত সরিষাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য জামালপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
আহতের মা আনোয়ারা বেওয়া বলেন, “আমার ছেলের সঙ্গে কারও কোনো বিরোধ ছিল না। কোনো কারণ ছাড়াই তাকে কুপিয়ে আঙুল বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।”
এ বিষয়ে সরিষাবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ইকবাল হোসেন জানান, এখনো পর্যন্ত লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।