চলমান উত্তেজনার মধ্যে আগামী জুনে শুরু হতে যাওয়া ফুটবল বিশ্বকাপে ইরানের অংশ নেওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। দেশটির ক্রীড়ামন্ত্রী আহমদ দোনিয়ামালি নিশ্চিত করেছেন, চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে পরিবর্তিত নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) গণমাধ্যমকর্মীদের উদ্দেশে দোনিয়ামালি বলেন, আমরা জাতীয় দল এবং তাদের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছি এবং একটি কমিটিও গঠন করেছি। আজ এই আলোচনার অংশ হিসেবে আমাদের একটি বৈঠকও রয়েছে এবং আমরা আমাদের আইনগত দায়িত্ব পালন করছি। আমাদের প্রস্তুত থাকতে হবে।
তিনি আরও বলেন, যেকোনো পরিস্থিতিতে বিশ্বকাপে না যাওয়ার সিদ্ধান্তও নেওয়া হতে পারে। আর যদি যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়, তাহলেও আমাদের প্রস্তুত থাকা উচিত, যাতে আমাদের উপস্থিতি জোরালো হয়। তবে আমি আবারও জোর দিয়ে বলছি, এই ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণ বর্তমান পরিস্থিতি, সরকার এবং সম্ভবত জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের আলোচনার ওপর ভিত্তি করেই হবে।
চলতি বছরের ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এবারের আসর। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে যৌথ হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এরপর ইরানের বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে, কারণ তিনি দলটির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন যে যুক্তরাষ্ট্রে ইরানের খেলাটা হয়তো সমীচীন হবে না। এর জবাবে ইরানের ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি মেহদি তাজ ইঙ্গিত দিয়েছেন, ফিফার সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত নিশ্চয়তা না পাওয়া গেলে ম্যাচগুলো মেক্সিকোতে সরিয়ে নেওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
তবে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো প্রকাশ্যে ইরানের অংশগ্রহণের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন এবং পুনর্ব্যক্ত করেছেন, দলটি এই প্রতিযোগিতার অংশ হিসেবেই থাকছে। ইনফান্তিনো সম্প্রতি তুরস্কে ইরানি দলের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন এবং বিশ্ব মঞ্চে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য তাদের দৃঢ় সংকল্পের প্রশংসা করেছেন।
২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপ হবে ইতিহাসের বৃহত্তম আসর। যেখানে ৪৮টি দল এবং ১০৪টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। এর উদ্বোধনী ম্যাচ মেক্সিকো সিটিতে এবং ফাইনাল নিউ জার্সিতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ইরানের সঙ্গে ‘জি’ গ্রুপে রয়েছে বেলজিয়াম, নিউজিল্যান্ড ও মিশর।