ইবতেদায়ী শিক্ষা বৃত্তি পরীক্ষায় মেধার দ্যুতি ছড়িয়েছে জামালপুর ইদ্রিসিয়া আলিয়া মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা। বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড, ঢাকা কর্তৃক আয়োজিত ‘ইবতেদায়ী শিক্ষা বৃত্তি পরীক্ষা-২০২৫’-এ প্রতিষ্ঠানটি যেমন ট্যালেন্টপুলে সাফল্য দেখিয়েছে, তেমনি সাধারণ গ্রেডেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বৃত্তি অর্জন করে এক অনন্য নজির স্থাপন করেছে।
বিশেষ করে, মাদ্রাসার মেধাবী শিক্ষার্থী আদিউর রহমান ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পাওয়ার পাশাপাশি জামালপুর সদর উপজেলায় প্রথম স্থান অর্জন করে প্রতিষ্ঠানের মুখ উজ্জ্বল করেছে। তার এই সাফল্যে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে আনন্দের জোয়ার বইছে।প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন বৃত্তিতে অর্জিত সাফল্যের চিত্র নিচে তুলে ধরা হলো: ইবতেদায়ী শিক্ষা বৃত্তি (২০২৫): ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছে আদিউর রহমান ও মুবাশশিরা মাহবুব। সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি পেয়েছে আহনাফ তাহমিদ (উমর ফারুক) ও আন-নূর সুবাহ।
কিশোরকণ্ঠ জেলা মেধাবৃত্তি (২০২৫): এখানেও মেধার স্বাক্ষর রেখেছে আদিউর রহমান। বিকেডিএ (BKDA) মেধাবৃত্তি (২০২৫): ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছে আদিউর রহমান ও আহনাফ তাহমিদ। সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি অর্জন করেছে আবু তালহা, মুবাশশিরা মাহবুব, তাসনিয়া জান্নাত, মালিহা মমতাজ মাওয়া এবং আমির হামজা।
নূরানী বৃত্তি কল্যাণ সংস্থা (২০২৫-২৬): এখানে প্রতিষ্ঠানটি অভাবনীয় সাফল্য পেয়েছে। ট্যালেন্টপুলে ৬ জন এবং সাধারণ গ্রেডে ৬ জনসহ মোট ১২ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি লাভ করেছে, যা এই শিক্ষা বর্ষে প্রতিষ্ঠানের সর্বোচ্চ অর্জন।
কৃতী শিক্ষার্থীদের পারিবারিক পরিচিতি-
আদিউর রহমান: তিনি জামালপুর জেলা শহরের খ্যাতিমান হোমিও চিকিৎসক, নওমুসলিম মরহুম ডা. আব্দুর রহিম গুণ সাহেব এবং খলিশাকুড়ি নিবাসী আঃ হামিদ সরকারের নাতি। তিনি ডা. আতিকুর রহমান উজ্জ্বল ও সুলতানা আতিক পাপড়ির একমাত্র পুত্র। তার এই ধারাবাহিক সাফল্যের পেছনে পরিবারের নিবিড় তত্ত্বাবধান রয়েছে বলে জানা গেছে।
মুবাশশিরা মাহবুব: তিনি জামালপুর জেলা শহরের পিটিআই-এর সাবেক সুপারিন্টেনডেন্ট আলহাজ্ব মরহুম আব্দুর রহিম মাস্টার এবং তিতপল্লা পোড়াবাড়ির আলহাজ্ব মোঃ আবেদ আলী মাস্টারের নাতনী। তার পিতা মাহবুবুর রহমান বিদ্যুৎ এবং মাতা ডিপ্লোমা কৃষিবিদ জনাবা আফরোজা (উপসহকারী কৃষি অফিসার)। তিনি পরিবারের কনিষ্ঠ সন্তান।
প্রতিষ্ঠানের এই অভাবনীয় অর্জনে আনন্দিত মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ। তারা জানান, শিক্ষার্থীদের এই সাফল্য কেবল মেধার পরিচায়ক নয়, বরং এটি প্রতিষ্ঠানের সুশৃঙ্খল পরিবেশ, মানসম্মত শিক্ষা এবং শিক্ষকদের আন্তরিক প্রচেষ্টারই সম্মিলিত প্রতিফলন। মাদ্রাসা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়, “এই সাফল্য শুধু কয়েকজন শিক্ষার্থীর নয়, এটি পুরো প্রতিষ্ঠানের সম্মিলিত পরিশ্রমের ফসল। আমরা আশা করি, শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে আরও বড় অর্জনের মাধ্যমে দেশ ও জাতির সেবা করবে।”এই সাফল্যের পর শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে এবং মাদ্রাসার সুনাম জেলাজুড়ে প্রশংসিত হচ্ছে।