গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলায় মাদকবিরোধী জোরালো অভিযানে ইয়াবা ট্যাবলেটসহ এক ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং জনপ্রতিনিধিদের নৈতিক দায়িত্ব নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
সোমবার (০৬ এপ্রিল ২০২৬) সকাল আনুমানিক ৮টা ৩০ মিনিটে উপজেলার ভাতগ্রাম ইউনিয়নের টিয়াগাছা ভবানীপুর গ্রামে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের একটি চৌকস দল অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে গ্রেফতার হন ছাইদার রহমান (৫৭/৬৭), যিনি ভাতগ্রাম ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের নির্বাচিত ইউপি সদস্য এবং মৃত আজিম উদ্দিনের ছেলে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপ-পরিদর্শক এনামুল হকের নেতৃত্বে একটি বিশেষ রেইডিং টিম অভিযানে অংশ নেয়। সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে অভিযুক্তের বাড়ি ঘেরাও করে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় তার নিজ দখলীয় শয়নকক্ষ থেকে তাকে আটক করা হয় এবং পরবর্তীতে তার দেহ তল্লাশিকালে পরিহিত শার্টের বুক পকেটে থাকা একটি ডার্বি ব্র্যান্ডের খালি সিগারেট প্যাকেটের ভেতর থেকে নীল জিপারে রাখা ৪০ পিস কমলা রঙের ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধারকৃত ইয়াবার মোট ওজন প্রায় ৪ গ্রাম, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ১২ হাজার টাকা। ঘটনাস্থলেই আলামত জব্দ করে নিয়ম অনুযায়ী জব্দতালিকা প্রস্তুত করা হয় এবং সাক্ষীদের স্বাক্ষর গ্রহণ করা হয়। একই সঙ্গে রাসায়নিক পরীক্ষার জন্য নমুনা সংরক্ষণ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে উপ-পরিদর্শক এনামুল হক জানান, গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর ৩৬(১) সারণির ১০(ক) ধারায় সাদুল্লাপুর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার তদন্ত কার্যক্রম মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, গাইবান্ধা জেলা কার্যালয় কর্তৃক সম্পন্ন হবে।
একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে সমাজের নৈতিক মানদণ্ড রক্ষা এবং জনগণের কল্যাণে কাজ করার কথা থাকলেও, তার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়। যেখানে দেশ মাদকের ভয়াবহতা থেকে তরুণ সমাজকে রক্ষা করতে নিরলসভাবে কাজ করছে, সেখানে একজন ইউপি সদস্যের এ ধরনের কর্মকাণ্ড সমাজে নেতিবাচক বার্তা দেয়।
মাদক শুধু ব্যক্তি নয়, একটি জাতির ভবিষ্যৎকেও ধ্বংস করে দেয়। সরকারের উন্নয়ন অগ্রযাত্রা ব্যাহত করে এই মরণঘাতী নেশা। তাই মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর অবস্থান সময়ের দাবি।
এ ধরনের অভিযানে নেতৃত্ব দিয়ে পেশাদারিত্ব, সততা ও সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন উপ-পরিদর্শক এনামুল হক ও তার টিম। তাদের এ নিরলস প্রচেষ্টা মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, মাদকের বিরুদ্ধে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং কোনো অপরাধীই আইনের ঊর্ধ্বে নয়।