খুলনার পাইকগাছা পৌরসভার শিববাড়ী ৯ নম্বর ওয়ার্ডে এক সনাতন ধর্মাবলম্বী পরিবারের জমি দখলের অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। ভুক্তভোগীর দাবি, ক্রয়সূত্রে প্রাপ্ত নিজস্ব জমিতে স্থানীয় এক ব্যক্তি জোরপূর্বক পাকা স্থাপনা নির্মাণ করছেন। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের দ্বারস্থ হলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর সুরাহা না হওয়ায় তিনি চরম হতাশা ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ না হলে বড় ধরনের সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
ভুক্তভোগী গৌতম সরকার অভিযোগ করেন, তার ক্রয়কৃত জমির ওপর জোরপূর্বক পাকা স্থাপনা নির্মাণ করছেন স্থানীয় বাসিন্দা মুজিবর রহমান গাজী। অভিযোগ রয়েছে, এ কাজে তাকে সহযোগিতা করছেন তার ছেলে গোলাম রাব্বানী। জমিতে নির্মাণকাজ শুরু হওয়ার খবর পেয়ে গৌতম সরকার ঘটনাস্থলে গিয়ে বাধা দিলে তাকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল, মারধর এবং খুন-জখমের হুমকি দেওয়া হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন। এ সময় স্থানীয় কয়েকজন এগিয়ে এলে তাদের বিরুদ্ধেও থানায় অভিযোগ দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এর আগেও ওই জমিতে একাধিকবার মাটি কেটে ক্ষতিসাধনের ঘটনা ঘটেছে। শুধু গৌতম সরকারের জমিই নয়, আশপাশের কয়েকটি জমি থেকেও মাটি কেটে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব খাটিয়ে এসব কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছেন অভিযুক্তরা।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী গৌতম সরকার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন করেছেন। আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, শিববাটি মৌজায় ক্রয়সূত্রে প্রাপ্ত জমির বৈধ মালিক হয়েও তিনি জোরপূর্বক দখল ও অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের কারণে চরম আর্থিক ও মানসিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। স্থানীয়ভাবে একাধিকবার মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও কোনো সমাধান না হওয়ায় বাধ্য হয়ে প্রশাসনের শরণাপন্ন হন তিনি।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরও অভিযুক্ত ব্যক্তি পুনরায় নির্মাণকাজ শুরু করেছেন এবং কারো কথায় কর্ণপাত করছেন না। এতে এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের মতে, প্রকাশ্যে অন্যের জমিতে পাকা স্থাপনা নির্মাণ করা আইনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানোর শামিল।
এ বিষয়ে পাইকগাছা থানার এসআই নুর আলম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তিনি উভয় পক্ষকে ডেকে স্থানীয়দের উপস্থিতিতে জমি মাপার নির্দেশ দেন। তিনি জানান, কেউ যদি অবৈধভাবে অন্যের জমিতে পাকা স্থাপনা নির্মাণ করে থাকেন, তাহলে তদন্ত সাপেক্ষে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কিন্তু পুলিশ প্রশাসনের কথায় কর্ণপাত না করেও কাজ চলমান রেখেছেন মুজিবর গাজী।
ভুক্তভোগী গৌতম সরকার বলেন, “আমি বৈধভাবে জমি কিনেছি। কিন্তু প্রভাবশালীদের কারণে আমার জমি দখল হয়ে যাচ্ছে। প্রশাসনের কাছে অভিযোগ দিয়েও এখনো কোনো সুরাহা পাইনি। আমি ও আমার পরিবার এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।”
এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল বলছেন, জমি সংক্রান্ত বিরোধ দ্রুত সমাধান না হলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের সংঘর্ষ বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটতে পারে। তাই দ্রুত প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।